আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে জনসভায় দাঁড়িয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রায়দিঘি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তাপস মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে তুলোধোনা করেন।
এদিন সভার শুরুতেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, ‘খেলা আপনারা শুরু করেছেন, আর সেই খেলা আমরাই শেষ করব। ৪ তারিখ মানুষের আদালতে এর বিচার হবে।’ তিনি রায়দিঘির মানুষকে আশ্বস্ত করে জানান, ডায়মন্ড হারবারের মতোই রায়দিঘিকে তিনি বুক দিয়ে আগলে রাখবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে অভিষেক গত ১৪ বছরের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে রান্নার গ্যাসের দাম ছিল ৪০০ টাকা, যা এখন ১২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ৫ টাকার প্ল্যাটফর্ম টিকিট হয়েছে ৩০ টাকা। জিরে গুঁড়ো থেকে শুরু করে দুধ ও কেরোসিন— সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। একদিকে দিল্লির সরকার করের বোঝা চাপিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে, আর অন্যদিকে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।’
বিজেপির বিরুদ্ধে বাঙালির সংস্কৃতিকে অবমাননা করার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, ‘বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। আমরা কী খাব, কী পরব, তা কি দিল্লির বহিরাগত নেতারা ঠিক করে দেবে? স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরেও কেন বাঙালিকে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দিতে হবে?’ বিজেপি প্রার্থীদের মাছ হাতে প্রচার করাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘৪ তারিখের পর এঁদের মাছের বাজারে বসিয়ে মাছ বিক্রি করাবো।’
বিজেপি ও তৃণমূল প্রার্থীর চারিত্রিক পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী একজন মার্জিত শিক্ষক। আর ওদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আগে চুরি করলে লোকে জেলে যেত, এখন বিজেপি নামক ওয়াশিং মেশিনে যায়।’ জেলা বিজেপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন। আমাদের উন্নয়ন দেখে আপনাদের ‘ভোকাট্টা’ করে দেব।’ বিজেপিকে ‘পরিযায়ী’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা কোভিডের সময় এদের অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ ভোট এলেই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চলে আসে।’ রায়দিঘির মাটি থেকে এভাবেই উন্নয়নের রূপরেখা আর রাজনৈতিক লড়াইয়ের কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।















