দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভা। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বাপি হালদারের সমর্থনে বিশাল জনসভা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি একের পর এক ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং রাজ্যের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
রায়দিঘির এই জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নাম না করলেও বিজেপি প্রার্থী অশোক পুরকাইতকে নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। টোটো কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন—সবকিছুই তুলে ধরে তিনি সাধারণ মানুষের সামনে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, ‘যারা সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কথা বলে, তারাই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তারা মানুষের বিশ্বাস ভেঙেছে।’
এদিনের সভা থেকে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধেও তীব্র সুরে আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাকে বঞ্চিত করছে। তিনি বলেন, ‘১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে শুরু করে আবাস যোজনার টাকা—সবই আটকে রাখা হয়েছে। বাংলার মানুষকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় বিজেপির নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু ভোটের সময় এলে তারা হঠাৎ করেই মানুষের দরজায় পৌঁছে যায়। ‘শীত, গ্রীষ্ম বা বর্ষা—সব সময় তৃণমূলের কর্মীরাই মানুষের পাশে থাকে,’ বলেন তিনি। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের সংগঠনের শক্তি ও জনসংযোগের দিকটি তুলে ধরেন।
জনসভা থেকে একটি বড় ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, আগামী দিনে মথুরাপুরকে মহকুমা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এই ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘মথুরাপুর মহকুমা হলে প্রশাসনিক সুবিধা বাড়বে, মানুষের পরিষেবা পাওয়া সহজ হবে এবং সার্বিক উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে।’ এই ঘোষণা নির্বাচনী প্রচারে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভোটের ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আগামী চার তারিখের পর বিজেপি বুঝতে পারবে বাংলার মানুষ তৃণমূলের উপর কতটা ভরসা রেখেছে।’ তিনি আরও জানান, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং বাংলার সম্মান রক্ষার লড়াই। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্বাচনে নিজেদের জয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।
সভায় নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নই, আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ তারিখের পর বিরোধীরা বুঝতে পারবে তৃণমূল কী জিনিস।’ এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের নেতৃত্বের বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। এদিনের জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় স্তরে এই সভা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রার্থীর সমর্থনে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সভা শেষে তৃণমূল শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা যায়। সব মিলিয়ে, রায়দিঘির এই জনসভা শুধু রাজনৈতিক আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, প্রশাসনিক পরিবর্তনের ঘোষণা এবং সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী প্রচারকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত রায়দিঘির মানুষ কোন দিকে নিজেদের সমর্থন জানায়।














