আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়লেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিএনপি সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ভোল বদলে তিনি দাবি করলেন, ওটি যে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় তা তাঁর জানাই ছিল না। দাউদের দাবি, ওই ঘরটিকে তিনি সাধারণ ‘গুদামঘর’ হিসেবেই চিনতেন। শুক্রবার চাকলাহাট ইউনিয়নে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয়ের পথে থাকা বিএনপির এই নেতার দরাজদিল আচমকা বদলে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে রহস্য। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। আবু দাউদ প্রধান ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ধন্যবাদ জানাতেও দেখা যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিএনপির অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে (যদিও ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি সকালের শিরোনাম ) ।কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তোলার তোড়জোড় শুরু করেন স্থানীয় কর্মীরা।
চাপ সামলাতে রাতেই আসরে নামেন দাউদ। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সাফাই দেন, ‘ওটা চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল না। আমি ঘরটি গুদামঘর বলেই জানতাম। সেখানে কোনও চেয়ার, টেবিল বা কোনও রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ছিল না।’ তাঁর দাবি, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। পাশের লোকজন কী বলছিল তা ভিড়ের চাপে তিনি খেয়াল করতে পারেননি বলে জানান।
ঘটনার সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিকে এখন অস্বীকার করছেন এই বিএনপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি তখন লোকজনকে সামলাতে ব্যস্ত ছিলাম। পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বলছে, বুঝে উঠতে পারিনি। পরে শুনেছি, সেখানকার ভিডিয়ো আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে বলে ছড়ানো হয়েছে।’ নিজের রাজনৈতিক জীবন নষ্ট করার ষড়যন্ত্র হিসেবেই পুরো বিষয়টিকে দেখছেন তিনি। ছবি সংগৃহিত ।















