কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে কাঁপছে রাজ্য। তারাপীঠের ঘটনার পরে নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনে মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। এরই মধ্যে সোমবার সকালে ব্যস্ত সময়ে শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরের ফুড প্লাজায় আচমকা বিধ্বংসী আগুন লাগে। একাধিক খাবারের দোকানে প্রচুর রান্নার তেল ও দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই আবহেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাথে দুধ গরম করা নিয়ে বিতর্ক এবং তা নিয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের প্রতিক্রিয়া।পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে গিয়ে আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মন্ত্রী। বড় হোটেল বা ফুড প্লাজায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায়, ঘিঞ্জি ফুটপাথের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, ফুটপাথে খোলা উনুন জ্বালিয়ে বা ট্রান্সফরমারের পাশে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্নার প্রবণতা থেকেই বিপদের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাঁর কথায়, চা, লুচি বা পানের দোকানের ত্রিপল থেকে একটি স্ফুলিঙ্গই গোটা বাজার পুড়িয়ে দিতে পারে।হকার-দখল প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে মন্ত্রী বলেন, ফুটপাথের এক-তৃতীয়াংশে দোকান রেখে বাকি অংশ পথচারীদের চলাচলের জন্য ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ বারবার দেওয়া হয়েছে। খোলা স্টোভে দুধ গরম করার অধিকার কারও নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। উচ্ছেদ প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের রাজ্যে বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তা ভাড়া দিয়ে ফুটপাথে বসবাস করা হচ্ছে, তাঁদের বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে দুধ গরম করা নিয়ে বিতর্কের সময় সরকার পরে ওই পরিবারের থাকা ও কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। অগ্নিমিত্রা তখন নিজের মন্তব্যের সুর নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেছিলেন। তবে শহরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আপস না করার কথা ফের স্পষ্ট করে শিয়ালদহ-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে তিনি বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, দুধ গরমের ঘটনা নিয়ে সরব হওয়া পক্ষগুলি এ বার আগুন লাগার কারণ নিয়ে মুখ খুলুক।














