ডিজিটাল জনগণনাকে প্রশাসনিক সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধাননগরে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার স্ব-শুমারি কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কাজ দীর্ঘদিন শুরুই করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই জনগণনাকে অগ্রাধিকারের তালিকায় এনে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব।
আগের সরকার নানা কারণে এই কাজ শুরু করতে পিছপা হয়েছিল। আমাদের সরকারে আসার পর আমরা এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।” তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তিনির্ভর এই জনগণনা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক পরিকল্পনাকে আরও তথ্যভিত্তিক করে তুলবে। তিনি জানান, এবার স্ব-শুমারি এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল— এই দুই পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ হবে। তাঁর দাবি, “চূড়ান্ত তথ্য সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরে বিভিন্ন সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা নিতে সাধারণ মানুষকে বারবার নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।” অর্থাৎ একবার তথ্যভান্ডার তৈরি হলে সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে প্রশাসনের আশা।
একই অনুষ্ঠানে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত এসআইআর এবং এএসডিডি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এখনও বহু ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে দাবি বা আপত্তি জানাননি। “যাঁরা ভোটার হিসেবে এখনও দাবি করেননি, তাঁরা পরে নাগরিক হিসেবে দাবি করবেন কি না, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে,” বলেন তিনি। জনগণনাকে ঘিরে জনবিন্যাস বা অনুপ্রবেশের বিতর্ক প্রসঙ্গেও অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থী এক বিষয় নয়। বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের দায় সরকার নেবে না।” ফলে জনগণনার কাজকে রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে আলাদা করে দেখার বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। ডিজিটাল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর দাবি, জনগণনার সময় সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষিত থাকবে এবং তা শুধুমাত্র সরকারি পরিকল্পনা, জননীতি প্রণয়ন ও পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ডিজিটাল জনগণনা নিয়ে সরকারের এই সক্রিয় অবস্থান শুধু জনসংখ্যার হিসাব তৈরির জন্য নয়, ভবিষ্যতের কল্যাণমূলক প্রকল্প, সম্পদ বণ্টন এবং নীতিনির্ধারণের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ।













