সন্ত শ্রী গুরু রবিদাসের ৬৫০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বার্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক ইঙ্গিতও স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। একদিকে তিনি ভারতীয় মনীষীদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, অন্যদিকে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন। গুরু রবিদাস সরণিতে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে শমীক বলেন, “সারা দেশে সন্ত রবিদাসের জন্মজয়ন্তী পালন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন দেশের প্রকৃত ইতিহাসকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের কাছে সন্ত রবিদাস, গুরু তেগ বাহাদুর, গুরু গোবিন্দ সিং-সহ ভারতীয় মনীষীদের ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন।” তাঁর বক্তব্য, দেশের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করাই শক্তিশালী ভারত গঠনের অন্যতম শর্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করছেন। বিজেপিও সেই আদর্শ মেনেই কাজ করছে।” অনুষ্ঠানে রাজ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উঠে আসে। বর্ধমানে জইশ-ই-মহম্মদের সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শমীকের অভিযোগ, “অতীতের সরকার পশ্চিমবঙ্গকে জঙ্গিদের ‘সেফ করিডোর’-এ পরিণত করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি আর হতে দেবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়েও এ দিন কড়া অবস্থান নেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
তিনি বলেন, “বাইরে থেকে এসে কেউ যদি বিজেপির নাম ব্যবহার করে তোলাবাজি করে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপরও অভিযোগ উঠলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শমীকের এই বক্তব্যে দুটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—একদিকে তৃণমূলকে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে আক্রমণ, অন্যদিকে বিজেপির অন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়েই এগোতে চাইছে রাজ্য বিজেপি, এ দিনের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।













