Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বিধানসভা ভিত্তিক নির্বাচনী কমিটি গড়ল তৃনমূল

বিধানসভা ভিত্তিক নির্বাচনী কমিটি গড়ল তৃনমূল

ভোটের দামামা বাজতেই ঘর গোছাতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। প্রথম দফার নির্বাচনের আগে বিধানসভাভিত্তিক বিশেষ নির্বাচন কমিটি গড়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবারের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন জেলার শত শত নেতা। মূলত ভোট পরিচালনার নাম দিলেও, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দিতেই এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’। বাঁকুড়া থেকে বীরভূম কিংবা উত্তর ২৪ পরগনা— সর্বত্রই কমিটির বহর চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি বিধানসভার কোন্দল মেটাতে সব শিবিরের নেতাদেরই ঠাঁই দেওয়া হয়েছে এই তালিকায়।

 

নির্বাচন ঘোষণা হতেই বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া কেন্দ্রে ২৯ জন নেতার কমিটি গড়েছে তৃণমূল। পিছিয়ে নেই ছাতনাও, সেখানে রয়েছেন ২০ জন। রানিবাঁধে ৩৬ জন এবং রায়পুরে ২৯ জনকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ভোট কমিটি। বাঁকুড়া বিধানসভার টাউন ও ব্লক মিলিয়ে কমিটির সদস্য সংখ্যা একলাফে ৬০। বিষ্ণুপুর লোকসভার বড়জোড়ায় ৩২ জন, কোতুলপুরে ২৮ এবং সোনামুখীতে ২৬ জন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের চিত্রটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে সিউড়িতে ১৭, বোলপুরে ১১ এবং লাভপুরে ৯ জনকে রাখা হলেও রামপুরহাটে সেই সংখ্যা ৫২। ময়ূরেশ্বরের দুটি ব্লক মিলিয়ে সদস্য সংখ্যা ৪৬। নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার সমীকরণও চমকপ্রদ।

 

রানাঘাট লোকসভার অধীনে নবদ্বীপে ১৬ এবং শান্তিপুরে ১৯ জন রয়েছেন। কৃষ্ণগঞ্জে ৩১ এবং রানাঘাট উত্তর-পূর্বে ৫৫ জনকে নিয়ে কমিটি গড়া হয়েছে। রানাঘাট দক্ষিণে ১১, চাকদহে ১৬, কল্যাণীতে ১৩ ও হরিণঘাটায় ১৬ জন নেতা কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায় ৩৩, বারাসাতে ২১, নৈহাটিতে ১৭ এবং ভাটপাড়ায় ১৮ জনের কমিটি হয়েছে। জগদ্দল ও নোয়াপাড়ায় যথাক্রমে ২৪ ও ২০ জন নেতা রয়েছেন। ব্যারাকপুরে ১৮, খড়দহে ৩৯ এবং পানিহাটিতে সদস্য সংখ্যা ২৭। বাদ যায়নি পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়াও।কেশিয়াড়িতে ২১, নারায়ণগড়ে ২৫ ও মেদিনীপুরে ২৭ জন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে হাওড়ার সাঁকরাইলে ১০, উলুবেড়িয়া পূর্বে ৩০, উলুবেড়িয়া উত্তরে ২২, শ্যামপুরে ২১ এবং আমতায় ১৪ জন নেতা রয়েছেন। বনগাঁ দক্ষিণের তালিকায় ১৭ এবং স্বরূপনগরে ২৬ জন ঠাঁই পেয়েছেন। এত বড় মাপের কমিটি গঠন কি আসলে বিবাদ মেটানোর দাওয়াই? তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অবশ্য এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি স্রেফ নির্বাচনী কৌশল। জয়প্রকাশবাবু জানিয়েছেন, ‘প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে আড়াইশো থেকে ৩০০ বুথ রয়েছে। প্রত্যেকটি বুথেই আমাদের ১৫ জন করে বুথ স্তরের কমিটির সহকর্মী রয়েছেন।

 

অর্থাৎ ৩০০ বুথ যদি ধরে নেওয়া যায়, তা হলে প্রায় এক একটি বিধানসভায় সাড়ে চার হাজার করে কর্মী ভোটপ্রক্রিয়া পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়াও আমাদের অঞ্চল কমিটি, ব্লক কমিটি ও জেলা কমিটি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করার জন্য বিধানসভার সব অঞ্চল এবং এলাকা থেকেই নেতা-কর্মীদের নিতে হয়। তাই সার্বিক ভাবে সমগ্র বিধানসভায় ভোটপ্রক্রিয়া মসৃণ ভাবে পরিচালনা করতেই এই কমিটিগুলি গঠন করা হয়েছে।’ নেতার সাফাই যাই হোক, নিচুতলার কর্মীদের প্রশ্ন, এই মেগা কমিটির হাত ধরে ভোটের বৈতরণী কি মসৃণ হবে? ফাইল ফটো।

READ MORE.....