Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন মেনে ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার

সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন মেনে ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার

সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন মেনে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার থেকেই সরকারি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। তবে খুশির আবহের চেয়েও এই মুহূর্তে পদ্ধতি এবং পরিমাণ নিয়ে ক্ষোভের আগুন বেশি চড়া। আন্দোলনকারী কর্মী সংগঠনগুলির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকলেও প্রাপ্য পাওনার তুলনায় অনেক কম টাকা দিচ্ছে নবান্ন। এমনকি, ডিএ গণনার ফর্মুলা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর তরজা।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়ার প্রথম কিস্তি মিটিয়ে দিতে হবে। সেই লক্ষ্যেই চলতি সপ্তাহে অর্থ দপ্তর একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করে। সেখানে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসেব আপলোড করার সুযোগ দেওয়া হয়। এসওপি মেনে শুক্রবার ও শনিবার দফায় দফায় টাকা ছাড়া হলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। বিরোধীদের দাবি, পোর্টাল খুলে হিসেব নেওয়ার পরেও রাজ্য কার্যত ‘তঞ্চকতা’ করছে।

সিপিএমের কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী স্পষ্ট বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ‘অল ইন্ডিয়া কনজিউমার ইনডেক্স’ মেনে ডিএ দিতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ করছি, সেই নিয়ম মানা হয়নি। এ ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার আমাদের সঙ্গে তঞ্চকতা করছে। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের রোপা-২০০৯ অনুযায়ী ডিএ দেওয়া হবে। তাই এমন সব ত্রুটি দেখে আমরা অর্থ দফতরকে চিঠি দেব।’

অন্যদিকে, ছুটির দিনে নবান্ন খোলা থাকলেও শিক্ষা দপ্তরের ঢিলেমি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল। তাঁর কথায়, ‘৩১ মার্চের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র টাকা ঢোকানোর জন্য শনিবার-রবিবারও নবান্ন খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা দফতর-সহ বাকি দফতরগুলির কোনও হেলদোল নেই। তার মানে সরকারই চাইছে প্রায় সিংহভাগ কর্মী যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পান। এটা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে শুধু চ্যালেঞ্জ করা নয়, বাকি কর্মীদের প্রতি সরকারের উদাসীন মনোভাব স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠছে। সরকারপন্থী শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও কর্মচারীরা এটা কবে বুঝবেন!’

পাল্টা জবাবে তৃণমূল সমর্থিত ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘বিরোধী সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করে চলেছেন। আসলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার ডিএ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যে নির্দেশিকা তিনটি জারি করছে, সেগুলি তারা সম্ভবত পড়ে দেখেননি। সেখানে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, কিসের ভিত্তিতে এই ডিএ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারী দরদি, তাই তো তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা সত্ত্বেও নিজের প্রতিশ্রুতি এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডিএ দেওয়া শুরু করেছেন।’

READ MORE.....