Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বিজেপিকে লেজে-গোবরে করে ছাড়ব, তালডাংরায় চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক

বিজেপিকে লেজে-গোবরে করে ছাড়ব, তালডাংরায় চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক

বিজেপিকে যদি লেজে-গোবরে না করতে পারি, তবে আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়।’ তালডাংরার উপনির্বাচনী রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এভাবেই দিল্লির সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তালডাংরা বিধানসভার বিবরদা কলেজ মাঠে দলীয় প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহ বাবুর সমর্থনে এক বিশাল জনসভায় যোগ দেন তিনি। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তালডাংরা থেকে তৃণমূলের জয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

 

 

অভিষেক স্পষ্ট জানান, যারা বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে এবং প্রাপ্য অধিকারের টাকা আটকে রেখেছে, এই নির্বাচন মূলত তাদের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই। কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যদি দিল্লির বহিরাগত নেতারা প্রমাণ করতে পারে পাঁচ বছরে নরেন্দ্র মোদি সরকার বাঁকুড়া জেলার জন্য ১০ পয়সা দিয়েছে তাহলে রাজনীতি আমি রাজনীতির আঙিনায় পা রাখবো না।’ বিজেপি প্রার্থীদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, ‘আমরা যাদের নোংরা বালতিতে ফেলে দিই বিজেপি তাদেরকে কুড়িয়ে নিয়ে বসায়।’ তাঁর দাবি, বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

 

 

বিজেপি কর্মীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাড়ায় যান ভদ্রলোক, শিক্ষিত লোক, নম্রলোক, মার্জিতলোক বিজেপি করে না। যত ধর্ষক, যত চোর চিটিংবাজ, দুই নম্বরি, মাতাল, গাঁজাখোর, পাতাখোর, বেইমান সবাই বিজেপি করে।’ বিজেপিকে একটি মারণ রোগের সঙ্গে তুলনা করে তিনি হুঙ্কার দেন, ‘বিজেপি নামক আলসার আর ক্যান্সারকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।’ উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক জানান, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দমে যায়নি। তালডাংরা বিধানসভার ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৩ হাজার মহিলা এখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। গোটা বাঁকুড়া জেলায় এই সংখ্যা ৮ লক্ষ ৭৩ হাজার। আবাস যোজনা নিয়ে তিনি বড় ঘোষণা করেন। তাঁর মতে, ২০২৪ এবং ২০২৫ বর্ষে তৃণমূল সরকার তালডাংরা বিধানসভায় ১৪ হাজার ৫৫০ জন গরিব মানুষের মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

 

 

এছাড়াও সিমলাপাল ব্লকের কড়াকানালিতে আইটিআই নির্মাণ এবং ৪ কোটি ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নদী বাঁধ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। অভিষেক তথ্য দিয়ে জানান, জয় বাংলা পেনশনে ১৪ হাজার ৬২৩ জন এবং বিধবা ভাতায় ৭ হাজার ৫২৫ জন উপকৃত হয়েছেন। এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সুবিধার কথা মাথায় রেখে সিমলাপাল, মাচাতোড়া এবং দূরবরাজপুর অঞ্চলে পাঁচটি নতুন স্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জনসভা থেকে তিনি জানান, তালডাংরার ৩ লক্ষ মানুষ নিয়মিত রেশন পাচ্ছেন এবং ৫২ হাজার কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। যুবসাথী প্রকল্প প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ফেব্রুয়ারিতে যুবসাথীর কথা ঘোষণা করেছে এবং মার্চের ছয় তারিখের মধ্যে টাকা দিয়েছে।’

 

 

এই বিধানসভার ২৫ হাজার ৭৮৩ জন যুবক-যুবতী ইতিমধ্যে অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়েছেন। এছাড়াও এলাকায় দেড়শ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অভিষেক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দশ প্রতিজ্ঞা’র কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশ্বাস দেন, বাংলায় তৃণমূল সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, মায়েরা আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বার্ধক্যভাতা এবং নতুন করে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য শিবির’ চালু করার কথা ঘোষণা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, যারা বাড়ির জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের সবার জন্য পাকা ছাদ নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধে অভিষেক বলেন, বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে কষ্ট দিতে ভালোবাসে। তবে ২৩ তারিখ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই বাংলার মানুষ তার যোগ্য জবাব দেবে। আগামী ৪ জুন ফলাফল প্রকাশের দিন নিয়ে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জোড়া ফুল চিহ্নের পাশে যে বোতামটা থাকবে সে বোতামটা এমনভাবে টিপতে হবে চার তারিখের রেজাল্টের দিন ভোট বাক্স খুলবে পদ্মফুল যেন শস্য ফুল দেখে।’ তীব্র গরম উপেক্ষা করে সভায় আসা মানুষের ভিড় দেখে তিনি আপ্লুত হয়ে জানান, উন্নয়নের মাধ্যমেই তিনি মানুষের এই আশীর্বাদের ঋণ পরিশোধ করবেন। সব মিলিয়ে, তালডাংরার বিবরদা মাঠ থেকে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে ‘কবরে’ পাঠানোর ডাক দিয়ে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।

READ MORE.....