তিলোত্তমায় ভোটের পারদ চড়তেই সক্রিয় টাকার খেলা। উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে নাকাতল্লাশির সময় একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হল প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা। হিসাব বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ এই অর্থ পাচারের অভিযোগে দুই যুবককে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম সাজিদুর রহমান ও বিবেক ওঝা। সাজিদুরের বাড়ি নদিয়ার কালিগঞ্জে এবং বিবেক হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার সকালে শ্যামবাজার মোড়ের কাছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, এসএসটি টিম এবং বড়তলা থানার পুলিশ যৌথভাবে গাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছিল। সকাল ৯.৫৫ মিনিট নাগাদ একটি সন্দেহভাজন গাড়িকে থামানো হয়। গাড়ির ভেতর দুই যুবকের আচরণ দেখে সন্দেহ দানা বাঁধে আধিকারিকদের মনে। তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে পড়ে একটি কালো চামড়ার ব্যাগ। সেই ব্যাগ খুলতেই দেখা যায় নোটের পাহাড়। উদ্ধার হওয়া মোট টাকার পরিমাণ ১৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি নোটই ৫০০ টাকার।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই বিপুল অর্থের স্বপক্ষে কোনও বৈধ নথি বা রসিদ দেখাতে পারেননি ওই দুই যুবক। এর পরেই শ্যামপুকুর ১৬৬ বিধানসভা কেন্দ্রের নোডাল অফিসার শিবব্রত রায়ের উপস্থিতিতে টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, ওই টাকা কোথা থেকে আসছিল এবং কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল? ভোটের আগে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা ভোট কেনার জন্য এই অর্থ ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না লালবাজার।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ তারিখ কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভোটগ্রহণ। বহিরাগত দুষ্কৃতী ও কালো টাকার প্রবেশ রুখতে শহরজুড়ে চলছে কড়া নজরদারি। সম্প্রতি বেহালাতেও এক কোটি টাকার হদিশ মিলেছিল। এবার শ্যামবাজারের এই উদ্ধার ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে গিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। শহরের প্রবেশপথগুলিতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি প্রহরা। দিনরাত চলছে ধরপাকড়। এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।















