এক সপ্তাহের ব্যবধানে তুতো ভাই, বাবা এবং দাদুর আকস্মিক মৃত্যুতে এক সময়ে অন্ধকার নেমে এসেছিল জীবনে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সেই গভীর শোককে জেদে বদলে ফেলে এশিয়ান গেমসে রুপো জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন দিল্লির মেয়ে পিঙ্কি বালহারা। ঠিক আট বছর পর জাপানের আইচি-নাগোয়ার আসরে ফের ইতিহাস গড়লেন তিনি। সোমবার কুরাশের মহিলাদের ৭৮ কেজি অনূর্ধ্ব বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক দখল করে পিঙ্কি হয়ে উঠলেন ভারতের একমাত্র ক্রীড়াবিদ, যাঁর ঝুলিতে এই খেলায় একাধিক এশিয়ান গেমস পদক রয়েছে।
২০১৮ সালের জাকার্তা আসরে মহিলাদের ৫২ কেজি বিভাগে রুপো জিতেছিলেন তিনি। সে বারই প্রথম এশিয়ান গেমসে উজবেকিস্তানের এই ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে পিঙ্কির হাত ধরে প্রথম পদকের মুখ দেখেছিল ভারত। ছোটবেলায় জুডো দিয়ে লড়াই শুরু করে ২০১৮ সালের এশিয়ান জুনিয়র জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেও জাকার্তার জুডো দলে সুযোগ পাননি তিনি। সেই হতাশা ভুলে কুরাশের ট্রায়াল দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। কিন্তু আসরে নামার ঠিক আগেই বাবার আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন। মামা তথা কোচ সমুন্দর টোকাসের অনুপ্রেরণায় অনুশীলনে ফিরে বাবার দেখা স্বপ্নের কথাই মনে রেখেছিলেন পিঙ্কি।
পুরোনো স্মৃতি টেনে পিঙ্কি আবেগতাড়িত গলায় বলেছিলেন, “বাবার মৃত্যুর পরপরই অনুশীলনে নামায় লোকে কী বলবে ভেবে রাতে জিমে গিয়ে গা ঘামাতাম।” এ বারের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যারাম লিমকে ৩-০ ব্যবধানে একপেশে বাউটে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। তবে শেষ চারের লড়াইয়ে আরেক দক্ষিণ কোরীয় প্রতিপক্ষ সুমিন মো-র কাছে ০-৫ ব্যবধানে পরাস্ত হয়ে ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। জাকার্তায় রুপো, হাংঝৌতে কোয়ার্টার ফাইনালে থমকে যাওয়া এবং আইচি-নাগোয়ায় ৭৮ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ—সব প্রতিকূলতা জয় করে পোডিয়ামে ভারতীয় তেরঙা উড়িয়ে অনন্য নজির গড়ে তুললেন দিল্লির এই অ্যাথলিট।














