Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

যুবভারতীতে সাম্বা-জাদুর উদ্যাপনেই তৃপ্ত ভারত!

যুবভারতীতে সাম্বা-জাদুর উদ্যাপনেই তৃপ্ত ভারত!

ফলাফল যা হওয়ার কথা ছিল, হলো ঠিক সেটাই; তবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের এই প্রদর্শনী ম্যাচ নিছক কোনো লড়াই ছিল না, বরং তা ছিল ডিজিটাল যুগের ফুটবল-উদ্যাপনের এক নিখুঁত চিত্রনাট্য। সল্টলেকের এই ম্যাচে কার্লো আনচেলোত্তির দল ৪-০ ব্যবধানে সহজেই জয় তুলে নিলেও, গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের কাছে স্কোরলাইন একেবারেই গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমার্ধের প্রথম সাতাশ মিনিট পর্যন্ত মনবীর সিং এবং রায়ান উইলিয়ামসদের দুর্দান্ত প্রতি-আক্রমণ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বেশ চাপে রেখেছিল। কিন্তু আঠাশ মিনিটে আকাশ মিশ্রকে বোকা বানিয়ে এস্তেভাওয়ের শট গুরপ্রীত সিং সান্ধুর ভুলে জালে জড়ালে ব্রাজিলের গোল-উৎসব শুরু হয়। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে পেদ্রোর শট ফের গুরপ্রীতের হাত গলে জালে ঢুকলে ভারতের পিছিয়ে পড়া নিশ্চিত হয়।

 

দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে বিজয়ের ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে ৫৮ মিনিটে স্যামুয়েল লিনো দুর্দান্ত কার্লিং শটে তৃতীয় গোলটি করেন এবং ইনজুরি টাইমে প্রভসুখন গিলকে পরাস্ত করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন লিনো। এত কিছুর পরেও সাহাল আব্দুল সামাদ যখন টাচলাইনে ডগলাস স্যান্টনকে ‘নাটমেগ’ করেন বা রায়ান উইলিয়ামসের শট গোললাইন থেকে ফিরে আসে, তখন ভারতীয় ফুটবলের ‘কী হতে পারত’ গোছের আক্ষেপগুলোই যেন কিছুটা প্রশান্তি পায়। আট হাজার টাকার বহুমূল্য টিকিট কেটেও ঢাকা থেকে ছুটে আসা হুসেইন কিংবা বেঙ্গালুরু থেকে আসা অমিতদের কাছে এই ম্যাচ ছিল এক তীর্থযাত্রার মতো, যেখানে জিকো-সক্রেটিসের দেশের বর্তমান তারকাদের চাক্ষুষ করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

 

যুবভারতীর গ্যালারি পুরোপুরি না ভরলেও এবং নেইমারের অভাব অনুভূত হলেও, ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের পায়ে বল গেলেই গ্যালারি ফেটে পড়ছিল উল্লাসে; এক তরুণ সমর্থক তো হেসেই বলে উঠলেন, “জামাটা ব্রাজিলের হলেও, রক্তটা তো ভারতীয়।” দুই দলের কোচের কাছেও এই ম্যাচ ছিল মুহূর্তের সমাহার; ব্রাজিলের কোচ আনচেলোত্তি হাসিমুখে জানিয়েছেন, “খেলোয়াড়দের জন্য এটি কোনও পরীক্ষা ছিল না, এটি ছিল একটি সুযোগ।”

 

অন্যদিকে, ভারতের কোচ খালিদ জামিলও চার গোল হজম করার পরেও আপুইয়া ও অনিরুদ্ধ থাপার রক্ষণাত্মক নিয়ন্ত্রণ এবং মনবীরদের নিরলস দৌড়ে ইতিবাচক দিকই খুঁজে পেয়েছেন। এই ম্যাচ হয়তো ভবিষ্যতে শুধু একটা স্মৃতি হয়েই থাকবে, যেখানে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে কেউ হয়তো বলবেন, “মনে আছে সেবার আমরা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম? এরপর যেন কার সাথে খেলার কথা ছিল আমাদের?”—কিন্তু শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় যুবভারতীতে আসা দর্শকদের কাছে মুঠোফোনের স্ক্রিনে আর মনের মণিকোঠায় এই সাম্বা-জাদুর মুহূর্তগুলোই চিরকালীন সম্পদ হয়ে রয়ে গেল।

READ MORE.....