ভারতের জাতীয় জনগণনার (সেনসাস) ধাক্কায় রাজ্যে পিছিয়ে যেতে পারে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। আগামী বছরের গোড়াতেই দেশজুড়ে জনগণনার দ্বিতীয় দফার কাজ শুরু হওয়ার কথা। এই দেশব্যাপী প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিযুক্ত করার জেরে রাজ্যের দুই বড় বোর্ড পরীক্ষার সূচি ও নির্ঘণ্ট বদলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিকাশ ভবন ও পর্ষদ। সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনগণনার কাজ চলার কথা, যা সংশোধনীসহ আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত গড়াতে পারে।
অন্যদিকে, পূর্বঘোষিত সূচি মেনে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু একই সময়ে শিক্ষক সমাজকে একদিকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যদিকে পরীক্ষা হলের নজরদারিতে রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এই পরিকাঠামোগত জটিলতা এড়াতে পর্ষদ ইতিপূর্বেই স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে পরীক্ষা পিছনোর একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন রুটিন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। পর্ষদের এই পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও ১৬ মার্চের পর পরীক্ষা শুরুর নীল নকশা তৈরি করছে।
সংসদের সভাপতি অসিতকুমার মণ্ডল জানান, “মাধ্যমিকের খসড়া সূচির ওপর নজর রেখেই আমরা আগামী বছরের উচ্চমাধ্যমিকের দিনক্ষণ পুনর্নির্ধারণের কাজ শুরু করেছি।” এদিকে, পর্ষদের সভাপতি লালু দাস স্পষ্ট করেছেন যে, “এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। স্কুলশিক্ষা দফতরের অনুমোদনের পরেই নতুন নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হবে।” তবে এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষামহলে ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের একটি বড় অংশ পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়াকেই যুক্তিযুক্ত মনে করছেন, কারণ তাঁদের মতে পর্যাপ্ত শিক্ষক ছাড়া এত বড় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা অসম্ভব। অন্যদিকে বিকল্প ভাবনার দাবিও উঠছে।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, “পড়ুয়াদের দীর্ঘদিনের একটা মানসিক প্রস্তুতি থাকে। হঠাৎ সূচি বদলালে তাদের ওপর নেতিবাচক মানসিক চাপ পড়বে। আমাদের দাবি, পরীক্ষার সূচি অপরিবর্তিত রেখে জনগণনার দিনক্ষণ পরিবর্তন করা হোক।” শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কা, পরীক্ষা মার্চ মাসে পিছিয়ে গেলে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলপ্রকাশের চেনা সময় সারণীও ধাক্কা খাবে। মে মাসের মধ্যে একাদশ শ্রেণির পঠনপাঠন শুরু করার যে প্রশাসনিক লক্ষ্য থাকে, তাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পরীক্ষার সূচি ও জাতীয় কর্তব্যের এই টানাপোড়েনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, এখন সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক।













