গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের হালহকিকত খতিয়ে দেখতে এবং প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নতুন ‘ভিবি-জি-রামজি’ (১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান) প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সরাসরি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে সশরীরে হাজির হচ্ছেন তিনি। বুধবার(৪ নভেম্বর) এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং দফতরের শীর্ষ সচিবদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদ শক্ত করতে গরিব ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্য অতিরিক্ত ২৫ দিনের কাজের যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, নথিপত্রে তার বাস্তবায়ন আশানুরূপ হয়নি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে এই প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে রয়েছে। কেন সরকারি নির্দেশ সত্ত্বেও কাজের গতি এত শ্লথ এবং কোথায় গলদ রয়েছে, তার সরাসরি জবাবদিহি চাইবেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতে ১০০ দিনের কাজকে কেন্দ্র করে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অনেক ক্ষেত্রেই উপভোক্তারা পুরো মেয়াদের কাজ পেতেন না এবং ভুয়ো নথির মাধ্যমে অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ আসত।
সেই পুরোনো ব্যবস্থা ও অনিয়মের ধারা পুরোপুরি বদলে দিতে এবার বিডিও-দের একক নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি পঞ্চায়েত দফতরের নিজস্ব ও স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবারের এই জরুরি বৈঠকেই সেই মনিটরিং পরিকাঠামোর চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং কড়া অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছে শাসক দল। বিজেপির প্রধান মুখপত্র দেবজিৎ সরকার এই প্রসঙ্গে জানান, “বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে গয়ংগচ্ছ ভাব ও কর্মবিমুখতা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি দফতরে গিয়ে কাজের পরিধি বাড়াচ্ছেন।
বাম ও তৃণমূল আমলের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে গ্রামীণ উন্নয়ন বারবার ব্যাহত হয়েছে। এই পরিকাঠামোকে সচল করতে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে প্রকৃত সুবিধা দেবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ত্রিস্তরীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এবং নিচুতলার আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এই জনমুখী প্রকল্পের গতি থমকে ছিল। সরাসরি রাইটার্স বা নবান্ন থেকে নির্দেশ না পাঠিয়ে স্বয়ং প্রশাসনিক প্রধানের দফতরে গিয়ে এই হস্তক্ষেপ নিচুতলার আধিকারিকদের ওপর চাপ বাড়াবে এবং গ্রামীণ বাংলায় কাজের গতি ত্বরান্বিত করবে।













