Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বক্সায় ফিরছে ‘পলাতক’ বাঘিনী

বক্সায় ফিরছে ‘পলাতক’ বাঘিনী

ঘরের মেয়েকে ঘরে ফেরানোর তৎপরতা শুরু হলো উত্তরবঙ্গে। আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প (বিটিআর) থেকে অসমের জঙ্গলে পালিয়ে যাওয়া তিন বছরের বাঘিনীকে অবশেষে ট্র্যাঙ্কুলাইজ বা ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে ফিরিয়ে আনার সবুজ সংকেত দিল নয়াদিল্লি। জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (এনটিসিএ) থেকে অনুমতিপত্র মেলার পর আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকেই অসমের রাইমোনা অভয়ারণ্যের লাগোয়া এলাকায় দুই রাজ্যের বনকর্তারা যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন।

 

গত মাসের শেষ সপ্তাহে বক্সার জঙ্গল ছেড়ে বাঘিনীটি প্রতিবেশী রাজ্য অসমের সীমানায় ঢুকে পড়ে। রাইমোনা জাতীয় উদ্যান থেকে কিলোমিটার আটেক দূরে রাজেন্দ্রপুর বনগ্রামের প্রায় একশ বিঘা বিস্তৃত একটি ঘন বাঁশঝাড়ে সে ডেরা বেঁধেছিল। ভিন রাজ্যে বাঘিনীর এই গোপন আস্তানার খোঁজ মেলার পরেই তাকে উদ্ধারের জন্য ঘেরাটোপ তৈরি করে বন দফতর। তবে ভিন রাজ্য থেকে বন্যপ্রাণী অ্যানেস্থেশিয়া বা ঘুমপাড়ানি ওষুধ প্রয়োগ করে সরানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ছাড়পত্রের আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। শনিবার ও রবিবার সরকারি ছুটি থাকায় সেই প্রক্রিয়া কিছুটা থমকে যায়। অবশেষে সোমবার দিল্লির সবুজ সংকেত মিলতেই আসরে নামেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ।

 

তিনি নিজেই অসমের রাইমোনা বন বিভাগে পৌঁছে অভিযানের তদারকি শুরু করেন। বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল গত সাত দিন ধরে অসমে ঘাঁটি গেড়ে বাঘিনীটির গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। বাঘিনীটির অবস্থান চিহ্নিত করে এলাকাটি আগেই জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল। সোমবার রাতে অন্ধকারের কারণে অভিযান বন্ধ রাখা হলেও, আজ সকাল থেকেই চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বনের মুক্ত পরিবেশ ও পশুদের নিজস্ব পরিযায়ী স্বভাবের কারণেই এই সীমানা বদল। মাত্র এক মাস আগেই, গত দোসরা অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই বাঘিনীটিকে বক্সার মুক্ত অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছিল।

 

তার আগে সেপ্টেম্বর মাসের ২৯ তারিখে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে ধরে এনে বায়ুসেনার বিশেষ হেলিকপ্টারে এটিকে উত্তরবঙ্গে এয়ারলিফট করা হয়। রাজ্য বন মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “দুই রাজ্যের যৌথ মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে বাঘিনীটির সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে এবং আজ বিকেলের মধ্যেই তাকে সুরক্ষিতভাবে বক্সার খাঁচায় (এনক্লোজার) ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।” বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল যে বন্যপ্রাণের সুরক্ষায় ও পুনর্বাসনে ভৌগোলিক সীমানার চেয়েও আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ও কেন্দ্রীয় অনুমোদন কতটা জরুরি।

READ MORE.....