দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ শাসকরাও এত মানুষকে বন্দি করেনি, জরুরি অবস্থার সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যা করেছিলেন— বরেলীতে দাঁড়িয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ঠিক এই ভাষাতেই আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা জে পি নাড্ডা।
মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের বরেলীতে বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রার পর এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে নাড্ডা বলেন, “যাঁরা আজ গণতন্ত্র নিয়ে কান্নাকাটি করছেন… রাহুল বাবা, আপনি খুব চালাক সাজতে চাইছেন। মনে রাখবেন, আপনার ঠাকুমা জরুরি অবস্থার সময় কোনও যুক্তি, কোনও আপিল এবং কোনও কারণ ছাড়াই ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষকে টানা ২২ মাস জেলে ঢুকিয়ে রেখেছিলেন।
দীর্ঘ ২২ মাস কোনও শুনানি পর্যন্ত হয়নি। আর আপনারা এখন গণতন্ত্রের কথা বলছেন? আপনারা গণতন্ত্রের জন্য আবেদন করছেন! বন্ধুদের আমি জানিয়ে দিতে চাই, স্বাধীনতার লড়াই চলাকালীন ব্রিটিশরাও এত মানুষকে জেলে পুরেনি, ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থার সময় যত মানুষকে জেলে ঢুকিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে এটা আপনাদের অতীত কীর্তি, আর আজ আপনারাই গণতন্ত্র নিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন!” তিনি আরও দাবি করেন, যে দলের গোটা ইতিহাসটাই কর্তৃত্ববাদী শাসনে চিহ্নিত, তাঁদের মুখে গণতন্ত্র নিয়ে বক্তব্য শোভা পায় না। নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ এবং সমাজবাদী পার্টিকেও তীব্র ভাষায় নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, “কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন দল, বিশেষ করে এই ইন্ডি জোট—যার মধ্যে নির্দিষ্ট করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি রয়েছে—নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের মনে যে বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে, তা ভেঙে ফেলার অসৎ চেষ্টা চালাচ্ছে।” অনুপ্রবেশ ও ভুয়ো ভোটার রুখতে বিরোধীদের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের তুলনা টানেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাড্ডা বলেন, “অমিত শাহ স্পষ্ট বলেছেন, যে ভোটই অবৈধ, তা চিহ্নিত করতে হবে, তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে এবং তাঁদের ফেরত পাঠাতে হবে।
আর কংগ্রেস ও রাহুল বাবা কী বলছেন? তাঁদের বসতি দিন, তাঁদের সাধারণ রূপ দিন, স্বীকৃতি দিন এবং বৈধতা দিন। আপনারা বলুন, এই ভুয়ো ভোটগুলিকে কি বৈধতা দেওয়া উচিত?” উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাষ্ট্রীয় লোকদল প্রধান জয়ন্ত চৌধুরী এবং একাধিক এনডিএ নেতার উপস্থিতিতে এ দিন বরেলীতে এই মিছিল সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলনের পাল্টায় দেশজুড়ে গণসংযোগ বাড়াতে এই পদযাত্রার আয়োজন করে বিজেপি।













