দেশজুড়ে জনগণনার প্রক্রিয়া শুরু হতেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম— অনলাইন বা অফলাইন, যে পদ্ধতিতেই তথ্য জমা দেওয়া হোক না কেন, নির্ধারিত ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর না দিলে সেই তথ্য অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, প্রতিটি পরিবারকেই নির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে জনগণনা কর্তৃপক্ষকে। রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য, ‘অনলাইন বা অফলাইন— যে মাধ্যমেই জনগণনায় অংশ নেওয়া হোক, নির্ধারিত ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবেই তথ্য গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হবে।’ এই প্রশ্নগুলির পরিধি শুধু পরিবারের সদস্যসংখ্যা বা ঠিকানায় সীমাবদ্ধ নয়।
সরকার জানতে চাইছে একটি পরিবারের বাসস্থানের ধরন, বাড়ির নির্মাণসামগ্রী, মালিকানার অবস্থা, কতগুলি ঘর ব্যবহার করা হয়, পানীয় জলের উৎস, বিদ্যুৎ, শৌচাগার, রান্নার জ্বালানি, স্নানের ব্যবস্থা এবং বর্জ্য জল নিষ্কাশনের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর তথ্যও। একই সঙ্গে ডিজিটাল পরিকাঠামোর উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে কি না, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা হয় কি না, স্মার্টফোন বা টেলিফোন আছে কি না, এমনকি রেডিও, টেলিভিশন, সাইকেল, মোটরসাইকেল কিংবা ব্যক্তিগত চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। যোগাযোগের জন্য একটি বৈধ মোবাইল নম্বর দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়াও গৃহকর্তার নাম, লিঙ্গ, সামাজিক শ্রেণি, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা এবং পরিবারের প্রধান খাদ্যশস্য সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হবে।
অর্থাৎ, জনগণনা এবার শুধু জনসংখ্যা গণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; একটি পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক পরিকাঠামোর সামগ্রিক চিত্রও তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণনা কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘এই তথ্য দেশের জনসংখ্যা, আবাসন পরিস্থিতি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর বাস্তব ছবি তুলে ধরতে সাহায্য করবে। তাই প্রত্যেক পরিবারের কাছে সঠিক তথ্য দেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্প, নগর পরিকল্পনা, আবাসন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে জনগণনা আর শুধু মানুষ গোনার কাজ নয়, বরং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান তথ্যভিত্তি হয়ে উঠছে।













