Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

‘বিজেপি চক্রান্ত ব্যর্থ হবে’ হুঁশিয়ারি মমতার

‘বিজেপি চক্রান্ত ব্যর্থ হবে’ হুঁশিয়ারি মমতার

বড়ঞায় বিধানসভার নির্বাচনী প্রচার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কান্দি মহকুমার চারজন তৃণমূল প্রার্থীকে নিয়ে এদিন সভা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আমি বড়ঞার সভা থেকে মুর্শিদাবাদের ভোটের নির্বাচনী প্রচার শুরু করলাম।সভায় তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার বিশেষত্ব এবং সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদ সিল্ক, ছানাবড়া মিষ্টি, নানা ঐতিহ্য ও খ্যাতিসম্পন্ন দ্রব্যের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মানুষ ও সংস্কৃতির স্বাদ বিশ্বের কাছে পরিচিত।

 

তিনি কান্দি মহকুমার একাধিক উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন এবং বলেন, তবে মুর্শিদাবাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল গঙ্গা ভাঙন। ফরাক্কা ব্যারেজের ড্রেজিং না হওয়ায় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদ বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা সহ্য করতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান এখন নেই। নদী ভাঙন এবং গঙ্গা ভাঙন রোধ করা দুষ্কর।সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির প্রতি কড়া আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, বিজেপি শুধুমাত্র গুন্ডারাজ তৈরি করছে। আমি কখনও হিন্দু-মুসলিম বা তপশিলী ভাগ করি না। বাংলার ভাষায় কথা বললে ওড়িশা অত্যাচার করে। আমরা বাংলায় দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিককে ভাই-বোনের মতো ভালবাসি। আজকের বিজেপি সরকার দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। এসআইআর-এর নামে লাইন দেওয়ার জন্য অনেককে মানসিক কষ্টে মারা যেতে হয়েছে। হিন্দু-মুসলিম উভয় পক্ষের মানুষ নিহত হয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে যাদের নাম নেই, তারা অনুপ্রবেশকারী। অনেকের নাম কাটা হয়েছে, বিশেষ করে মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের। ভোটের অধিকার সবার।

 

তিনি আরও বলেন, নতুন নতুন নেতা উঠেছে, যারা ভাবছে সরকার দখল করবে। সারাজীবন লড়াই করেছি, ভবিষ্যতেও লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে হবে। মহিলাদের অসম্মান করা হলে রেয়াত হবে না। বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে, তাই আপনাদের উপর হামলা করলে রুখে দাঁড়াতে হবে। আইসি ও ওসির পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এত ওসি ও আইসি পরিবর্তনের মানে বোঝায় ভোটের আগে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে কোনও নোংরামি চক্রান্ত নেই যা আমাদের বিরুদ্ধে হয়নি। রাজ্যে বিজেপির কোনও সম্ভাবনা নেই। ওরা বাংলাকে টার্গেট করেছে, আমরা বাংলার জয় দিয়ে দিল্লিকে লক্ষ্য করব। ভোট ভাগাভাগি করা যাবে না। বিজেপি এখন ভোট কাটার জন্য মানুষকে নগদ টাকা দিয়ে প্রভাবিত করছে। একবার নোটবন্দি, এখন ভোটবন্দি। যতই চক্রান্ত করুক, ব্যর্থ হবে।

 

তিনি ভারতের ঐতিহ্য ও ধর্মের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। হিন্দু-মুসলিম ভাগাভাগি নয়। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ‘কর্মই ধর্ম’। ধর্মের নামে সবাইকে একত্রিত করা উচিত। বাংলাকে ভেঙে আলাদা রাজ্যে ভাগ করার চেষ্টা চলছে। বাংলার জয় আমাদের লক্ষ্য। এবার দিল্লিকে লক্ষ্য করব।

 

মমতা বলেন, আমি সরকারে থেকেও বিরোধীতা করতে জানি। বিজেপি আমাকে ভয় পায়। আমি বিহারের ভোটের নাম তুলে বাংলায়ও নাম তোলা হচ্ছে। ভ্যানিস ওয়াশিং মেশিনে ঢোকানো হয়েছে। তবে লড়াই করে জয় নিশ্চিত করব। আমাদের প্রার্থী জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে ভোটে দাঁড়াবেন।সভায় উপস্থিত জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় মানুষ, সমর্থক ও তৃণমূল কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানান যে, মুর্শিদাবাদে উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ভোটের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তৃণমূল প্রার্থীরা লড়াই করবেন।

 

রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড়ঞার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুরু করা নির্বাচনী প্রচার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের জন্য প্রভাব ফেলবে। এই সভা কেবল ভোটের প্রচারই নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণের একটি মঞ্চ হিসাবেও কাজ করেছে।

READ MORE.....