‘আমরা ২০৭, এই শরীরী ভাষা নিয়ে কেউ যদি নেমে পড়েন ময়দানে, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে।’ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজেপি নেতা কর্মীরা যেন নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভেবে না নেন, তা মনে করিয়ে দিয়ে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার রাজারহাটে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে শমীকের বক্তৃতার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল তোলাবাজি প্রসঙ্গ। ওই মঞ্চ থেকেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন তিনি।
বিজেপির নামে, দলীয় পতাকা হাতে অনেকে তোলাবাজি করছেন, সেই অভিযোগ একপ্রকার মেনে নিয়েছেন শমীক। তবে এ-ও ইঙ্গিত দিলেন, তাঁদের অধিকাংশই ‘রাতারাতি’ বিজেপি হওয়া নেতাকর্মী। তোলাবাজি নিয়ে সরকারের ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে শমীক বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর হাতে প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরাও দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ভাবে যেটা করার করছি।’ তিনি মেনে নেন, ‘দু’-একটা জায়গায় বিচ্যুতি আছে।’ তবে সেই ‘বিচ্যুতি’ যে দীর্ঘদিন সহ্য করা হবে না, তা স্পষ্ট জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, ”আরও ১৫ দিনের সময় দিচ্ছি আমরা। তার পরে যেটা হবে বুঝতে পারবেন।’
তৃণমূল জমানার দুর্নীতি রাতারাতি শেষ করা সম্ভব হয়েছে, তা মনে করেন না শমীক। তাঁর কথায়, ‘দু’মাস হয়েছে একটা সরকার তৈরি হয়েছে। সমস্ত কিছু সমাধান করা যায়নি। যদি বলি সব জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তবে ভুল বলছি। একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন চলেছে। সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর যে সমস্ত কিছু বদলে গিয়েছে সেটা নয়।’ পালাবদলের পর অনেকে দল বদলেছেন রাতারাতি। তৃণমূলের ঝান্ডা ছেড়ে বিজেপির পতাকা ধরেছেন। শমীক সেই সব ‘দলবদলু’কে সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা দলের পক্ষ থেকে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। আবার বলছি, পুরোপুরি করতে পেরেছি সেটা নয়।’ তিনি আশাবাদী, শীঘ্রই তোলাবাজি-সমস্যা গোড়া থেকে নির্মূল করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘কেউ ৪ ঘণ্টার মধ্যে শাসকদলে যোগ দিয়ে ফেলেছেন। এবং আমাদের দলেরই কারও মধ্যে সুপ্ত কিছু বাসনা ছিল। যেগুলো অতৃপ্ত অবস্থায় এতদিন ছিল, সেগুলো এখন ফুটে বেরিয়েছে। সেও কারও কারও সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এটা অস্বীকার করলে মিথ্যাচার হবে। আমরা দলের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার।
আমি আবারও বলছি, পুরোপুরি করতে পেরেছি, সেরকম নয়। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কঠোরভাবে এগুলোকে বন্ধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ বিজেপিতে যোগ দিয়ে তোলাবাজি মন্তব্য নিয়ে পরে ব্যাখ্যা দেন শমীক। বলেন, ‘দলের নাম নিয়ে তোলাবাজি করছেন। দলে কেউ আসেননি। আমরা গ্রহণ করিনি। আমাদের দলের নাম নিয়ে কিছু মানুষ বিভিন্ন জায়গায় তোলাবাজির চেষ্টা চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর হাতে প্রশাসনিক স্তরে সেটার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরাও দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিকভাবে যেটা করার, সেটা করছি। বিচ্যুতি দু-এক জায়গায় রয়েছে। কিন্তু, কোনও বিচ্যুতিকে দীর্ঘদিন মানা যাবে না। এই ব্যাপারে সরকারের নীতি জিরো টলারেন্স। আমরা আরও ১৫ দিন দেখছি। তারপর যেটা হবে, বুঝতে পারবেন।’














