মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টার পাশাপাশি কূটনৈতিক দরকষাকষিও সমান তালে এগোচ্ছে, আর সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ইজরায়েল ও লেবাননের সম্ভাব্য সংলাপ। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলে ইজরায়েলি মন্ত্রিসভার এক সদস্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও লেবাননের পক্ষ থেকে এমন কোনও আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি।
লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরাসরি কোনও আলোচনায় যাওয়ার আগে যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত জরুরি এবং সেটিকেই আলোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কথা হতে পারে। তবে লেবাননের সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, তারা এখনও পর্যন্ত এমন কোনও পরিকল্পিত যোগাযোগের বিষয়ে অবগত নয়, ফলে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এই আবহেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যেই কাতারে পৌঁছেছেন এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। একইসঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির ইরানে গিয়ে সে দেশের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে, কারণ লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং বেইরুট থেকে দামাস্কাস সংযোগকারী সড়কে হামলায় একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং জানিয়েছে, তাদের অধিকার সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সরে দাঁড়াবে না। এই পরিস্থিতিতে চিন নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ইরানের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের দিকটি তুলে ধরছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার সম্ভাবনা যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনই প্রতিদিনের হামলা ও পাল্টা হুমকি পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।














