দুষ্কৃতী নিয়ে দফতর ঘেরাও এবং গভীর রাতে হাঙ্গামা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মঙ্গলবার রাতের নজিরবিহীন ‘তাণ্ডব’ প্রসঙ্গে বুধবার এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিল নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৬৩ ধারার পরিধি একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার দুপুরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরের সামনে। দফতরে ঢোকার মুখে সিইও মনোজ আগরওয়ালকে ঘিরে স্লোগান দেন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা।
বিক্ষোভ দেখায় এসইউসিআই-ও। এর জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে স্ট্র্যান্ড রোড। পরিস্থিতি সামলাতে কড়া পদক্ষেপ করে লালবাজার। পুলিশ কমিশনারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগে কেবল দফতরের সামনে ১৬৩ ধারা থাকলেও এখন তা কয়লাঘাটা ক্রসিং থেকে কিরণশঙ্কর রায় রোড পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। এ দিন কমিশনের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ‘বেলেঘাটার কাউন্সিলর কয়েক জন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে সিইও দফতর ঘেরাও করেন এবং গভীর রাতে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। এই ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম বরদাস্ত করা হবে না।’
নাম না করে বেলেঘাটার তৃণমূল কাউন্সিলরের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে কমিশন। স্পষ্ট বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আইন আইনের পথে চলবে। বিধানসভা ভোটকে অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতে যা যা করণীয়, সব পদক্ষেপ করবে নির্বাচন কমিশন।’বিতর্কের সূত্রপাত ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র বা ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই বিবাদ মঙ্গলবার চরমে পৌঁছোয়।
তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের অভিযোগ ছিল, ব্যাগ ভর্তি ফর্ম নিয়ে একদল বহিরাগত সিইও দফতরে ঢুকেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন সেখানে বিজেপি সমর্থকরা পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়। মাঝরাত পর্যন্ত চলা সেই হাঙ্গামা সামলাতে শেষ পর্যন্ত নামাতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুধবার সকাল থেকেই এলাকা ছিল থমথমে। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিকেলের পর নতুন করে কোনো জমায়েত না হওয়ায় পরিস্থিতি বর্তমানে মোটের উপর নিয়ন্ত্রণে। তবে অসামাজিক কাজকর্ম রুখতে কমিশন যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, এ দিনের কড়া বার্তা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।















