গ্রান্ট-ইন-এইড বা রাজ্য সরকারপোষিত সংস্থার কর্মী এবং পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটাতে এবার কোমর বেঁধে নামল নবান্ন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া আগেই মিটেছে, এবার সেই পথেই হাঁটছে সরকারপোষিত সংস্থাগুলি। এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সাতটি দফতরকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে অর্থ দফতর। বুধবার নবান্নে অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ মেটানোর লক্ষ্যেই এই তোড়জোড়। উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষা, পুর ও নগরোন্নয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক, গণশিক্ষা প্রসার, পরিবহণ এবং পঞ্চায়েত দফতরের সচিবরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ‘তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি বা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না’। মূলত গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থাগুলির কর্মীদের তথ্যভান্ডার বা ডেটাবেস সম্পূর্ণ না থাকায় এতদিন এই প্রক্রিয়া থমকে ছিল। এবার নির্দিষ্ট পোর্টালে নির্ভুল তথ্য আপলোড করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বিভিন্ন সংস্থার কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন কাঠামো, চাকরির মেয়াদ এবং প্রাপ্য ডিএ-র নিখুঁত হিসাব কষেই পর্যায়ক্রমে টাকা ছাড়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই বকেয়া বুঝে পেয়েছেন। কিন্তু সরকারপোষিত সংস্থার কর্মীরা বঞ্চিত থাকায় প্রশাসনের অন্দরে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। নবান্নের এই সক্রিয়তায় সেই অসন্তোষে জল পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও বিশাল সংখ্যক কর্মীর তথ্য একত্র করা বেশ সময়সাপেক্ষ বলে মনে করছেন দফতরের আধিকারিকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ‘বিভিন্ন সংস্থার তথ্য একত্র করা একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তবুও রাজ্যের নির্দেশ মেনে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে’। নবান্ন সূত্রে খবর, অর্থ দফতর নিয়মিত এই কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। তথ্য জমা দেওয়ার গতির ওপরই নির্ভর করছে কবে থেকে সরাসরি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে। আপাতত সব বাধা কাটিয়ে বকেয়া মেটানোর লক্ষ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি। নবান্নের এই পদক্ষেপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে কয়েক হাজার গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীর।















