সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে এবার কাস্তে-হাতুড়ি-তারা চিহ্নের কোনও প্রার্থী নেই। দীর্ঘদিনের চেনা জমি ছেড়ে দিয়েছে সিপিএম, প্রার্থী দিয়েছে তাদের জোটসঙ্গী আইএসএফ। এই সিদ্ধান্তের ফলেই এখন উত্তাল সামশেরগঞ্জের রাজনৈতিক অলিগলি। বিশেষ করে জাফরাবাদের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি যেখানে আজও টাটকা, সেখানে কেন লড়ল না বামেরা? এই প্রশ্নে বিদ্ধ স্থানীয় নেতৃত্ব।
ঘটনার সূত্রপাত বছরখানেক আগে। নতুন সংশোধনী ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদ। সেই অশান্তির মাঝেই নিজের বাড়ির সামনে নৃশংসভাবে খুন হন বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাস।
সিপিএম নেতৃত্বের দাবি ছিল, মৃত হরগোবিন্দ বাবু দলের একনিষ্ঠ কর্মী ও বুথ এজেন্ট ছিলেন। ঘটনার পর শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁদের সেই লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি আজ কোথায় গেল, সেই প্রশ্নই তুলছেন নিচুতলার কর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাফরাবাদের সেই স্মৃতি ও আবেগ সম্বল করে সিপিএম এখানে বড় লড়াই লড়তে পারত। কিন্তু প্রার্থী না দিয়ে আইএসএফ-কে আসন ছেড়ে দেওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এমনকি মৃত হরগোবিন্দ দাসের ছেলে সর্মথ দাস আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, তাঁর বাবা একসময় সক্রিয় বাম কর্মী থাকলেও বর্তমানে সিপিএম একটি ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
মাঝে বিজেপি ওই পরিবারটিকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে রাজনীতির জলঘোলা করার চেষ্টা করলেও বামেদের তরফে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।ওয়াকফ সংক্রান্ত অশান্তির জেরে আজও প্রায় ৬০০ জন জেলবন্দি। আদালত ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। নিচুতলার কর্মীদের অভিযোগ, জোটের অংকে ‘শহিদ’ পরিবারের আবেগ ও দীর্ঘদিনের লড়াইকে বিসর্জন দিয়েছে দল। অনেকের মতে, স্থানীয় নেতৃত্ব হয়তো লড়াই করার মানসিকতা ও সাংগঠনিক শক্তি— দুই-ই হারিয়েছেন।
তবে এই ক্ষোভের কথা সরাসরি মানতে নারাজ সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা। তাঁর সাফ বক্তব্য, রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপিকে পরাস্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই বৃহত্তর জোটের স্বার্থেই সামশেরগঞ্জ আসনটি আইএসএফ-কে ছেড়ে দিতে হয়েছে।















