এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। ইগো পাশে সরিয়ে সবাইকে আগামী ১৫ দিন একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।’ বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সেনাপতি তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের এই মেগা মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন ৩০ হাজারেরও বেশি কর্মী। ছিলেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সব প্রার্থী, সাংসদ, সংগঠনের নেতা, মুখপাত্র, বুথ লেভেল এজেন্ট, জেলা পরিষদের সদস্য ও পুর কাউন্সিলররা।
এদিনের সভায় ভোটের সময় একতার বার্তা দেন অভিষেক। পাশাপাশি গত ছয় মাসের পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন। এখানেই শেষ না করে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও সুর চড়ান অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। তারা একটা ওয়েভ তৈরি করার চেষ্টা করছে যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু মাটিতে তাদের কোনও কাজ নেই। তারা শুধু মিডিয়া ও এজেন্সির উপর নির্ভর করছে।’ অভিষেক আরও বলেন, ‘বাঙালিরা ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করিনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে? গুজরাতের গুন্ডা আমাদের ভয় দেখাবে?’
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ৬০ লক্ষ নাম বাদ দিলেও তৃণমূলকে হারানো যাবে না। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি কিছু সমীক্ষার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ১ কোটি নাম বাদ গেলেও তৃণমূল আবার ক্ষমতায় ফিরবে। ২০২১ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আমি রেকর্ডে রাখছি, তৃণমূলের ভোট শতাংশ ২০২১-এর রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।’
যদিও এই কথা বলার পরও আত্মতুষ্ট না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘কে কত কাজ করছে দল সব নজরে রাখছে। যাঁরা ভালো কাজ করবে, তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে। যাঁরা শুধু দেখানোর জন্য কাজ করবে, তাঁদেরও দল দেখছে।’ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেন, ‘আমাদের দলে এখনও অনেকের মতানৈক্য,ইগো কাজ করছে। এই নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন।
যদি কোথাও খামতি থাকে পরে হা হুতাশের জায়গা থাকবে না। গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব থাকলে আগামী ১৫ দিন বিরত থাকুন। বিভেদ ভুলে যাওয়ার সময় এসেছে। আগামী ১৫ দিন সব ইগো দূরে সরিয়ে একজোট হয়ে লড়াই করুন। আমার নির্বাচন নয় তাই আমি খটবো না এটা হবে না। যে সার্ভেগুলো বেরিয়েছে তাতে সবাই বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন। তাই বলে আত্মতুষ্টি র জায়গা নেই। পুরোনো নতুন সবাই কে নামান। পুরোনোদের যোগ্য সম্মান দিন। প্রচারে নিন। মতবিরোধ বা মতানৈক্য যেন না হয়।’
এই দিনের সভায় আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের ইডি গ্রেফতার প্রসঙ্গে মুখ খোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে ভয় দেখাতে চাইছে। কিন্তু তাতে কাজ হবে না। বরং দল এতে আরও শক্তিশালী হবে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি অসমের এনআরসি-এর তুলনা করেন। তাঁর কথায়, ‘প্রথম পর্যায়ে যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, তার অধিকাংশই বাঙালি হিন্দুদের।’
অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে এনে দাবি করা হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কাছে নির্দেশ রাখিয়েছে তৃণমূলের নেতা কর্মী সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রীর অধিকারী যেখানেই বা যেখানে সেখানেই যেন পরীক্ষা করা হয়। এই বৈঠকেই তিনি জানান, ‘নির্বাচন কমিশনের এক পর্যবেক্ষক হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে আমার এবং আমার স্ত্রী রুজিরার গাড়ির তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছেন।’















