ভোটের উত্তাপের মাঝেই শহর কলকাতায় ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সির হানা । শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে হাজির হলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আধিকারিকরা। একই দিনে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রী সুজিত বসুকেও তলব করা হয়েছিল। তবে নিজে না গিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পুত্র সমুদ্র বসুকে পাঠান বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী।
যদিও অনুমোদনপত্র না থাকায় সমুদ্রের বক্তব্য গ্রাহ্য করেনি কেন্দ্রীয় সংস্থা। শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ তিনটি গাড়িতে চড়ে ইডি আধিকারিকরা নাকতলায় পার্থের বাসভবনে পৌঁছন। জওয়ানেরা তৎক্ষণাৎ বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এসএসসি নিয়োগ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে একাধিকবার পার্থকে তলব করেছিল ইডি। জেল থেকে জামিন পাওয়ার পর প্রতিবারই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক।
তিনি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ইডি তাঁকে ভিডিও কলে বা বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই এদিন সরাসরি তাঁর ড্রয়িংরুমে পৌঁছে গেলেন তদন্তকারীরা। ২০২২ সালে এই বাড়ি থেকেই গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে এদিন ইডির সক্রিয়তা দেখা গিয়েছে নিউ টাউনেও। নিয়োগ মামলায় অভিযুক্ত ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন রায়ের দফতর ও বাড়িতেও হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় দল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রসন্ন এই মামলায় অন্যতম চার্জশিটভুক্ত নাম। নিয়োগ দুর্নীতিতে তিন বছরের বেশি জেল খাটার পর বর্তমানে জামিনে থাকলেও অস্বস্তি পিছু ছাড়ছে না পার্থের। বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৫০ কোটি টাকা উদ্ধারের পর তৃণমূল তাঁর থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছে।
দলীয় পদ হারালেও খাতায়কলমে বিধায়ক পদে থাকা পার্থকে এবার আর টিকিট দেয়নি জোড়াফুল শিবির। বেহালা পশ্চিমে এবার লড়ছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। এদিকে পুর নিয়োগ মামলায় দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। বাবার প্রতিনিধি হিসেবে ইডি দফতরে যান তাঁর ছেলে সমুদ্র। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। সমুদ্র জানান, ‘ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বাবাকে ইডি ডেকে পাঠিয়েছে। বাবা চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি বিগত দিনে তদন্তে সহায়তা করেছেন। আগামী দিনেও করবেন। তবে নির্বাচনের সময়টুকু তাঁকে ছাড় দেওয়া হোক। কিন্তু সে সব শোনা হয়নি। বাবার অনুমোদনপত্র নিয়ে আমরা দেখা করতে এসেছিলাম। আমাদের নথি তাঁরা নিয়েছেন, কিন্তু আমাকে ভেতরে ডাকা হয়নি।
বলা হয়েছে, আমার সঙ্গে কথা বলা হবে না।’ ভোটের মুখে হঠাৎ ইডির এই সক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। পুর নিয়োগ মামলায় এর আগে মন্ত্রী রথীন ঘোষকেও তলব করা হয়েছিল। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত মামলায় শহরের বেশ কিছু ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের রাস্তা বন্ধ করতেই এই সাঁড়াশি অভিযান। নাকতলার বাড়িতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে উপস্থিত রয়েছেন এবং আধিকারিকরা তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে খবর। বাড়ির আশেপাশে কাউকে ঘেঁষতে দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী। সব মিলিয়ে ভোট-আবহে ফের নিয়োগ দুর্নীতির ছায়া শহরজুড়ে। ফাইল ফটো।















