ভোটের মুখে বড়সড় ধাক্কা খেলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। ভিডিও বিতর্কের আবহে এবার দল ছাড়লেন রাজ্য সভাপতি খোবায়েব আমিন। শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলেছেন তিনি। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিমের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর খোবায়েবের এই পদত্যাগ হুমায়ুনের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
কংগ্রেসের প্রাক্তন এই নেতা জানান, গত ৩১ জানুয়ারি হুমায়ুনের হাত ধরেই তিনি দলে এসেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আর পদে থাকা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে হুমায়ুনের রহস্যময় অর্থবল এবং বিজেপির সঙ্গে তাঁর তথাকথিত সুসম্পর্কের দিকে আঙুল তুলেছেন খোবায়েব। তাঁর দাবি, ‘হুমায়ুন কবীরের ফোনে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ফোন আসে। প্রশ্ন করলে উনি বলেন, বিধানসভায় যাই। সৌজন্যমূলক ফোন আসে।’
নির্দিষ্ট একটি দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই হুমায়ুন লড়ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। দলের বিপুল খরচের উৎস নিয়ে রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন খোবায়েব। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে তৈরি হওয়া দল কীভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে? প্রার্থীরা কোথা থেকেই বা হেলিকপ্টার পাচ্ছেন? আজমের শরিফে থাকাকালীন বিপুল হোটেল খরচের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। খোবায়েব বলেন, ‘প্রার্থীদের এক কোটি টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছেন। বলেছেন, জেতার থেকেও ভোট কাটতে হবে।’ এমনকি হুমায়ুন তাঁকে নিজের ছেলের থেকে টাকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও দাবি তাঁর।
তাঁর কথায়, ‘এই টাকার উৎস আমি সভাপতি হিসেবেই জানতে পারিনি। বাংলার মানুষ প্রশ্ন করুন, এত অর্থ কোথা থেকে এল?’
ভাইরাল ভিডিওটিকে হুমায়ুন ‘এআই’ নির্মিত বলে দাবি করলেও খোবায়েব তার তদন্ত চেয়েছেন। ভোটের আগে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আপাতত রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন খোবায়েব। তিনি জানান, এবার থেকে কেবল পীরজাদা হিসেবেই মানুষের পাশে থাকবেন। প্রথম দফার ভোটের পনেরো দিন আগে খোদ সভাপতির এহেন বিদায়ে হুমায়ুনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়।















