রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে তৎপরতা তুঙ্গে। রবিবার চতুর্থ অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। নতুন এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন আরও প্রায় দু’লক্ষ ভোটার। তবে কত জনের নাম চূড়ান্ত পর্যায় থেকে ছাঁটাই করা হল, সেই পরিসংখ্যান নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে কমিশন। অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ধাপে ধাপে এই নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া চললেও, ঠিক কত জন ভোটাধিকার হারালেন তা নিয়ে কমিশন এখনও নিরুত্তাপ।
নির্বাচনী ডামাডোলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর থেকেই তালিকার জল মাপছে কমিশন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল চূড়ান্ত তালিকার প্রথম অংশ। এরপর গত ২৩ মার্চ থেকে শুরু হয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পালা। শুক্রবার গভীর রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত পর পর তিন দিনে তিনটি পৃথক তালিকা সামনে এল। সোমবারের প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় নাম ছিল প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালিকার পর শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩৮ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে। কিন্তু এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে কত জন ‘বৈধ’ তকমা পেলেন আর কাদের আবেদন বাতিল হল, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
পরিসংখ্যান বলছে, এসআইআর শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। খসড়া পর্যায়েই প্রথম ধাক্কায় নাম বাদ গিয়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের। ফলে তালিকার বহর কমে দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০-এ। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকার প্রথম কিস্তি প্রকাশের সময় দেখা যায়, আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম কাটা পড়েছে। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত রাজ্যে বাদের খাতায় চলে গিয়েছেন ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন।
কমিশন সূত্রে খবর, ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন তালিকা প্রকাশ হয়, তখন ‘বিবেচনাধীন’ ক্যাটাগরিতে ঝুলে ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কাজ করছেন ৭০৫ জন বিচারক। ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে এই আইনি জট কাটানোর চেষ্টা চলছে। তবে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের মধ্যে ঠিক কত জনের কপালে শেষ পর্যন্ত লাল দাগ পড়ল, সেই চূড়ান্ত খতিয়ান জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ— সকলকেই।















