এবার পশ্চিমবঙ্গে বলবৎ হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি)। আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ করতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। চলতি বিধানসভা অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন করা হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের দলীয় জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি চালু করা হবে। বিজেপির সংকল্পপত্রেও এই প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার অঙ্গীকারও দিয়েছিল বিজেপি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে উদ্যোগী হয়েছে শুভেন্দু সরকার।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হল বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তকগ্রহণ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য একটি একক ও অভিন্ন আইনব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকার বারবার বলে আসছে, একই দেশে দুই ধরনের আইনি ব্যবস্থা চলতে পারে না এবং আইনের সামনে সকলেই সমান।
ইতিমধ্যে গুজরাট, উত্তরাখণ্ড ও অসম-সহ একাধিক বিজেপিশাসিত রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গও এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে।
উল্লেখযোগ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে রাজ্যে ইউসিসি চালু হতে দেবেন না। তবে নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি বিল পেশ হলে তা নিঃসন্দেহে রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠবে। বিজেপি একে নারীর অধিকার, সমান নাগরিক আইন এবং সুশাসনের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরবে। অন্যদিকে বিরোধীরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকারকে সামনে রেখে এর বিরোধিতা করতে পারে।
তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি আইন কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং সব নাগরিকের জন্য একই দেওয়ানি আইন নিশ্চিত করার সাংবিধানিক উদ্যোগ। সেই লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গেও এবার আইন প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার।














