সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় কাজের পরেও শেষরক্ষা হল না। মাধ্যমিকের জাল শংসাপত্র দিয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ থেকে বিতাড়িত হতে হল এক কনস্টেবলকে। এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু বিচারপতি অমৃতা সিনহার একক বেঞ্চ শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জালিয়াতির ঘটনায় আদালতের কোনও সহানুভূতি নেই। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর নৈতিক মনোবল নষ্ট হতে পারে এমন কোনও কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষ সর্দার নামে ওই ব্যক্তি ১৯৮৯ সালে বিএসএফের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় পর তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসক জানান, জেলায় ওই নামে কোনও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অস্তিত্বই নেই। জালিয়াতি স্পষ্ট হতেই ২০০২ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু হয়। যদিও মামলাটি বারাসত ও পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে ঘোরার কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছিল।
অবশেষে ২০২১ সালে বিএসএফের বিভাগীয় তদন্তে অভিযুক্ত নিজেই দোষ স্বীকার করেন। সন্তোষ জানান, চরম আর্থিক অনটনের জেরে টাকার প্রয়োজনে মাধ্যমিকের জাল শংসাপত্র তৈরি করেছিলেন তিনি। সত্য প্রকাশ পেতেই তাঁকে বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি ১৫ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করে সন্তোষ সর্দার দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অনেক দেরি হয়েছে। সুতরাং এই শাস্তি বৈধ নয়।
তবে আবেদনকারীর এই যুক্তি মানতে নারাজ আদালত। মামলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, ‘আবেদনকারী নিজে একাধিক জায়গায় মামলা করায় এই দেরি হয়েছে।’ সেই সঙ্গে কঠোর পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিচারপতি বলেন, ‘কোনও ব্যক্তির যদি প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকে তাহলে তিনি দেশের সেবার নিয়োজিত—এই যুক্তিকে মান্যতা দিয়ে চাকরিতে বহাল থাকতে রাখা যায় না।’ নথিতে গরমিল ধরা পড়ার পর আবেদনকারীর যাবতীয় আর্জি খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। এই নির্দেশের ফলে বিএসএফ থেকে বিতাড়নের সিদ্ধান্তই বহাল রইল।















