২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উত্তাল পদ্ম শিবির ।আদি বনাম নব্যের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ময়নাগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়ের নাম সরিয়ে নতুন প্রার্থী হিসেবে ডালিম রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়।কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পরই এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে।
ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির তরফে প্রথমে বিজেপির প্রার্থী পদ হিসেবে নাম দেওয়া হয় বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়কে। এদিকে কৌশিক রায়ের নাম ঘোষণা হতেই পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর থেকে শুরু করে জেলা সভাপতি কে আটকে রেখে কৌশিক রায়ের নাম পরিবর্তনের দাবি তোলে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।পরবর্তীতে বিজেপির চতুর্থ তালিকায় ডালিম রায়ের নাম আসার পর থেকেই ময়নাগুড়িতে কৌশিক রায়ের অনুগামীরা বিক্ষোভে নামেন।
তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন জনসংযোগ করা কৌশিক রায়কেই প্রার্থী রাখতে হবে। তাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে ডালিম রায়কে নতুন প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বিজেপি। এরপর আরও নাটকীয় রূপ নেয় ময়নাগুড়ি বিধানসভা। প্রাক্তন বিধায়ক কৌশিক রায়ের অনুগামীরা আন্দোলনে ফেটে পড়েন।এই দাবিতে ক্ষুব্ধ কর্মীরা বুধবার বিকেলে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান । রীতিমতন তালা ঝুলিয়ে দেন। এদিকে নতুন প্রার্থী ডালিম রায় সকাল থেকেই তার প্রচার শুরু করে দেয়।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তে ডালিম রায় এখন বিজেপির স্বীকৃত প্রার্থী। নাম ঘোষণার পর ডালিম শিবিরের কর্মীরা ময়নাগুড়িতে আবির খেলে উৎসব পালন করেন। বিরাট রেলি বের করে স্বাগত জানানো হয় ডালিম রাইকে।তবে কৌশিক অনুগামীদের বাধার মুখে কার্যালয় দখল ও প্রচার চালানো নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।দলের একটি বড় অংশের অভিযোগ ছিল, গত পাঁচ বছরে কৌশিক রায় এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন, যার ফলে স্থানীয় স্তরে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছিল।
এমনকি প্রার্থী বদলের দাবিতে জেলা সভাপতিকেও কার্যালয়ে তালাবন্ধ করে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছিল।এদিকে ঘটনার পরেই দেখা যায় কৌশিক রায় তার নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একের পর এক পোস্ট।এদিন কলকাতা থেকে ফিরে নিজের অনুগামীদের নিয়ে নিজেকে ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দাবি করেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক খুব উপড়ে দেন। রীতিমতন নিজের কর্মসূচি সাজিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা। এমনকি বিজেপি প্রার্থী হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট চাইছেন তিনি।ভোটের ঠিক মুখে ময়নাগুড়ির এই ডামাডোল বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার সুবিধা নিতে প্রস্তুত তৃণমূল কংগ্রেস।















