কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের সামনে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। ভোটার তালিকায় নাম তোলার ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে হয়। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই উত্তেজনা ছড়ায় যখন এক যুবক একতাড়া কাগজ নিয়ে সিইও দফতরে ঢুকতে যান। তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের অভিযোগ, ওই যুবক প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে প্রচুর পরিমাণে ‘ফর্ম ৬’ জমা দিতে এসেছিলেন। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ওই যুবককে ‘হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়েছে’ বলে দাবি তুলে বিএলও-রা রাস্তার ওপর বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন চৌরঙ্গীর বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠক। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। দু’পক্ষের ধস্তাধস্তিতে সিইও অফিসের সামনের রাস্তায় বেশ কিছু বাইক উল্টে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ গার্ডরেল দিয়ে দু’পক্ষকে আলাদা করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীরা গার্ডরেল টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠি চালিয়ে তাঁদের সরানোর চেষ্টা করে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ‘পুলিশ বিজেপি কর্মীদেরই শুধু সরিয়ে দিচ্ছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করছে না’। তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
তবে ওই যুবকের হাতে থাকা কাগজগুলো আদৌ ‘ফর্ম ৬’ ছিল কি না, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট বিবৃতি মেলেনি। এই ঝামেলার সূত্রপাত গত সোমবার থেকে। সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন, ‘নিজেদের ভোট সুরক্ষিত করতে বাইরের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঠাঁই দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি’। তাঁর দাবি ছিল, বিজেপি নেতা অমিত মালবীয়ের নির্দেশে ‘বস্তাভর্তি ফর্ম ৬’ বেআইনিভাবে জমা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে সরব হন। তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবার দুপুরে বিএলও-দের বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপ নেয়। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় নতুন নাম নথিভুক্ত করতে বা এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে বয়স ও বাসস্থানের প্রমাণসহ এই ফর্ম জমা দিতে হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, এই আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে বিজেপি ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় ঢোকাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নাম তোলার প্রক্রিয়াকে বাধা দিচ্ছে শাসকদল।















