ঘরের মাঠেই কি এবার সবথেকে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে খাস কলকাতা তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুর এখন গোটা রাজ্যের সবথেকে বড় রণক্ষেত্র। একসময়ের ঘনিষ্ঠ সেনাপতি, বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ায় লড়াই এখন স্রেফ ভোটের নয়, সম্মানেরও। বিজেপি এবার এই ‘মিনি ভারত’খ্যাত আসনটি ছিনিয়ে নিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে।
ভবানীপুর মানেই যেখানে অনায়াস জয় ছিল তৃণমূলের, সেখানে এবার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কড়া টক্কর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। রাজস্থানি, গুজরাটি, বিহারি এবং ওড়িয়া ভোটারদের পাশাপাশি বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম ভোটব্যাঙ্কেও থাবা বসাতে মরিয়া বিজেপি। ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার এবং জাতিগত সমীক্ষাকে অস্ত্র করে শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার ছেড়েছেন যে, ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমোকে হারিয়ে ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ করে ছাড়বেন। ২০১১-এর উপনির্বাচনে ৫৪ হাজার বা ২০১৬-তে ২৫ হাজারের ব্যবধান কি এবার সত্যিই ফিকে হয়ে যাবে? তৃণমূলের এই দুর্ভেদ্য দুর্গে চিড় ধরাতে বিজেপি যেভাবে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে, তাতে ভবানীপুরের লড়াই এখন টলিউডের মেগা থ্রিলারকেও হার মানাচ্ছে।
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল শিবিরের দাবি, ভবানীপুরের মানুষ তাঁদের ঘরের মেয়েকেই বেছে নেবেন এবং বাইরের শক্তির আস্ফালন এখানে খাটবে না। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ মমতাকে তাঁর নিজের কেন্দ্রের জন্য বাড়তি সময় দিতে বাধ্য করছে। যে কেন্দ্রটি আগে তৃণমূলের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ ছিল, আজ সেখানে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ পদ্ম শিবির। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের ‘মিনি ভারত’ কার দিকে পাল্লা ঝোঁকায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের নজর।













