ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘কারচুপি’ ও ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের কৃষ্ণনগর গান্ধী স্মৃতি সংঘ ময়দানে এক বিশাল প্রতিবাদী জনসভার আয়োজন করা হয়। সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ১৭ হাজার ভোটারের কাছে আকস্মিক নোটিস পাঠানোর প্রতিবাদে আয়োজিত এই সভাটি কার্যত এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এদিনের প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা এবং মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারসহ জেলা ও ব্লক স্তরের একঝাঁক নেতৃত্ব। জনসভা থেকে সরাসরি সুর চড়িয়ে জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া আসলে একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। কিন্তু আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি, একটাও ভোট কাটতে দেব না। প্রত্যেকের নাম তালিকায় থাকবে, কারও নাম বাদ যাবে না—এই দায়িত্ব আমাদের’।
তিনি উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা ও সাংসদ বাপি হালদারও সুর মিলিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য এই নোটিস পাঠানো হচ্ছে। আইনি ও রাজনৈতিক—উভয় পথেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে এবং তৃণমূল কর্মীরা সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।
গঙ্গাসাগরের এই মাটি থেকে দেওয়া তৃণমূল নেতৃত্বের এই ‘গ্যারান্টি’ সাধারণ ভোটারদের মনে যেমন সাহস জুগিয়েছে, তেমনই আগামী দিনে ওই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টাকে মাঠের লড়াইয়ে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে এদিনের সভা সমাপ্ত হয়।













