Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

সীমান্ত ঘেঁষে জামাতের উত্থানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরব বিরোধী দলনেতা

সীমান্ত ঘেঁষে জামাতের উত্থানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরব বিরোধী দলনেতা

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে উগ্র মতাদর্শের প্রসারের আশঙ্কায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এখন জাতীয় নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সামাজিক মাধ্যমে একটি তথ্যচিত্র বা ‘ইনফোগ্রাফিক’ প্রকাশ করে শুভেন্দু সতর্ক করেছেন যে, সীমান্তের ওপারে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়া ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বড়সড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী ৬৮টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনের প্রভাব বৃদ্ধিকে তিনি বিপদের সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন। বিরোধী দলনেতার মতে, ঢাকার শাসন পরিবর্তনের দিকে যখন বিশ্ব তাকিয়ে, তখন ভারতের পূর্ব সীমান্তে এক গুরুতর রাজনৈতিক সংহতি তৈরি হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা থেকে রংপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরের একেবারে উল্টো দিকে। শুভেন্দু মনে করেন, ওপারে আদর্শিক কট্টরপন্থা দানা বাঁধলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর ওপর। এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলপথ হওয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তাই ভারতের নিরাপত্তা।’ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু জানান, বহু জায়গায় জমি জটের কারণে বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ আটকে রয়েছে।

 

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কলকাতা হাইকোর্টও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রশাসনিক টালবাহানায় অনুপ্রবেশ বাড়ছে এবং এর ফলে সীমান্তের জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। সেই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরে ২০১১-১২ সালের তুলনায় বরাদ্দ প্রায় ১১১১.০২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এর আগে । বর্তমানে এই বরাদ্দ ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা। তাঁর আশঙ্কা, সঠিক নজরদারি না থাকলে চরমপন্থী শক্তি এই বিপুল অর্থের অপব্যবহার করতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট দাবি, তোষণের রাজনীতি চললে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবেই।

 

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি তিনটি প্রধান সমাধানের পথ বাতলেছেন, বিএসএফের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়, জিরো টলারেন্স নীতি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করা। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারই সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে উগ্র মতাদর্শের উত্থান অবৈধ অনুপ্রবেশকে ত্বরান্বিত করবে এবং ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর ধারণাকে শক্তিশালী করবে। যদিও শাসকদলের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

READ MORE.....