এ বার লক্ষ্য নবান্ন। রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির বার্তা দিয়ে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির। সোমবার নদিয়ার কালীগঞ্জের পলাশী মোড়ে দলের নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন তিনি। ফিতে কাটার পর এক জনসভা ও সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের পুরনো রাজনীতি এ বার খতম হবে। তাঁর দাবি, বাম এবং তৃণমূল উভয়ই নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সংখ্যালঘুদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।
কিন্তু আগামী ২২শে ফেব্রুয়ারির পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির চেনা ছবিটা আমূল বদলে যাবে বলে দাবি তাঁর। এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে হুমায়ুন কবির শাসকদল তৃণমূলের দুর্নীতি এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারতীয় তথা বাংলার রাজনীতিতে এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে, যেখানে মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল গঠন ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিজের আত্মবিশ্বাস জাহির করে তিনি জানান, তাঁর নিজের কেন্দ্র রেজিনগর নিয়ে তাঁর কোনও ভয় নেই। বরং রেজিনগরের পাশাপাশি বেলডাঙা ও কালীগঞ্জেও উন্নয়নের নয়া ধারা বইবে। শুধু সংখ্যালঘু নয়, জনতা উন্নয়ন পার্টি সংখ্যাগুরুদেরও সঠিক পথ দেখাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জোটের সমীকরণ নিয়েও এ দিন বড় ঘোষণা করেন হুমায়ুন। তিনি জানান, তৃণমূলকে উৎখাত করা এবং বিজেপিকে রোখাই তাঁর মূল লক্ষ্য। জোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত জনতা উন্নয়ন পার্টির দরজা খোলা রয়েছে আইএসএফ, সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের জন্য। ১ ফেব্রুয়ারি জোটের চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে জোট না হলেও তিনি পিছু হটবেন না। হুমায়ুন কবিরের হুঁশিয়ারি, একা লড়লে তিনি ১৮১টি আসনে প্রার্থী দেবেন এবং ১০০টি আসনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার হবেন।
বিহারের রাজনীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিহারের নীতীশ কুমার কম আসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আমি কেন পারব না? তিনি সাফ জানান, ১০০টি আসন পেলে অন্য দলগুলির সমর্থন নিয়ে সরকার গড়তে তিনি প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল সমর্থন দিলেও তাঁর আপত্তি নেই। এমনকি বিজেপির সমর্থন পেলেও তিনি সরকার গড়বেন, তবে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি কোনও জোটে তিনি যাবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। নদিয়ার চাপড়া, নাকাশিপাড়া ও পলাশীপাড়ার মতো এলাকাগুলিকেও উন্নয়নের মূল কর্মসূচিতে রাখার অঙ্গীকার করেছেন এই নেতা।















