একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকেও ছাপিয়ে যাবে ছাব্বিশের লড়াই। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যে গতবারের চেয়ে অন্তত ১০টি আসন বেশি পাবে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার বাঁকুড়ার নিত্যানন্দপুরে সোনামুখী বিধানসভার দলীয় প্রার্থী ডঃ কল্লোল সাহার সমর্থনে প্রচারে এসে এই ভাষাতেই হুঙ্কার ছাড়লেন ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব।
আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি দাবি করেন, রাস্তায় নামলেই বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে। মানুষ যদি সঠিকভাবে ভোট দেন, তবে ঘাসফুল শিবিরের আসন সংখ্যা গতবারের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে। এদিন নিত্যানন্দপুর ফুটবল মাঠের জনসভায় দেবের মেজাজ ছিল একদম আলাদা। চড়া রোদেও উপচে পড়া ভিড় সামলে তিনি শুরুতেই স্পষ্ট করে দেন তাঁর সফরের উদ্দেশ্য।
দেব বলেন, ‘আমি কিন্তু আপনাদের গ্রামে ভোট চাইতে আসিনি, আমি এসেছি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ডঃ কল্লোল সাহার জন্য দোয়া চাইতে আশীর্বাদ চাইতে।’ চিরাচরিত রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির পথে না হেঁটে অভিনেতা-সাংসদ বরং গুরুত্ব দিলেন গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর। কর্মীদের সামনেই তিনি বলেন, ‘ভোট আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আপনারা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারেন কিন্তু অনুরোধ করবো সারা বছর যারা আপনাদের পাশে থাকে তাদের ভোট দেবেন।’ রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলোকে হাতিয়ার করেই এদিন বিরোধীদের নিশানা করেন দেব।
কন্যাশ্রী, রূপশ্রী থেকে সবুজ সাথী— একের পর এক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ভারতবর্ষের আর কোনো রাজ্যে এমন কাজ হয়নি। বিজেপিকে নাম না করে কটাক্ষ করে দেব বলেন, ‘বিরোধীরা প্রথম প্রথম বলেছিল এই লক্ষীর ভান্ডার কোনদিন সাকসেস করতে পারবে না, কিন্তু দিদি তা করে দেখিয়েছেন। এই লক্ষীর ভান্ডার আজ বাংলার গর্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এমনকি স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে গরিব মানুষের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সুযোগকেও বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যের মাঝেই কর্মীদের প্রতি দেবের প্রশ্ন ছিল সরাসরি। তিনি জানতে চান, যারা কথা দিয়ে কথা রাখে তাদের জেতা উচিত নাকি যারা কথা দিয়ে অন্য রাজ্যে চলে যায় তাদের? উন্নয়নের প্রশ্নে সোনামুখীর মানুষকে বড় প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ঘাটালের সাংসদ জানান, সোনামুখী সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল জেতার পর হবেই। তিনি বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়ে গেছেন আমিও কথা দিয়ে গেলাম।’
বিরোধীদের বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাঁর বার্তা, ‘আমরা হার-জিতের রাজনীতি করিনা। মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার রাজনীতি করি, মানুষকে এক রাখার রাজনীতি করি। আমরা ভারতীয় ভোটের জন্য আমাদের ভাগ করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা, কেউ ভাগ হবেন না।’ দিনশেষে দিদির উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েই মঞ্চ ছাড়েন টলিউডের এই সুপারস্টার।















