Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বাদ দুই লক্ষাধিক ভোটার, নাম তুলতে ভিড় ট্রাইব্যুনালে

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বাদ দুই লক্ষাধিক ভোটার, নাম তুলতে ভিড় ট্রাইব্যুনালে

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ভোটার তালিকায় বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাতিলের খবরে জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোট বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ২২ হাজার ০৪২ জন। এর মধ্যে ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৬৮ জনের নাম নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গত সোমবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠেছে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭৩৯ জনের। অন্যদিকে, নথিপত্রের অসঙ্গতি বা অন্য কারণে তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছেন ২ লক্ষ ২২ হাজার ৯২৯ জন ভোটার।

 

জানা গিয়েছে, জেলার সাগর, কাকদ্বীপ ও পাথরপ্রতিমা—এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রে খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে আগেই ৪০,৭৩৯ জনের নাম বাতিল হয়েছিল। এই তিন বিধানসভা এলাকায় আরও ২০,৪৫০ জনের নাম বিচারাধীন ছিল। সোমবার নতুন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, সেই তালিকারও একটি বড় অংশের নাম বাদ পড়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিদিন ভোর থেকে কাকদ্বীপ মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে কয়েকশো মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন । ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়ে পুনরায় নাম নথিভুক্ত করার আশায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হাজির হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে এসডিও অফিস চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হলেও একটি বিষয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না সাধারণ মানুষের।

 

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেও এই ভোটাররা সম্ভবত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে আসা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। যদি ভোটই দিতে না পারি, তবে এই তালিকার মানে কী?’। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপে একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষের ভোটাধিকার হারানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন তৎপর থাকলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।

READ MORE.....