‘যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, যেটা বিজেপির অফিস থেকে কালকে বেলা ১.৮ মিনিটে সার্কুলেট করেছে। টাকা দিয়ে করেছে, যাতে দেখানো হয়। কারণ, আমি নির্দিষ্ট তথ্য এসেছে ১.৮ মিনিটে। সেই তথ্য দেখা হচ্ছে পরিষ্কার বলছে জোর করে করতে হবে। কারণ কী জানেন আপনারা? আমরা ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। ২২৬ পার করব ২০২৬-এ। মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছে, আমার বিশ্বাস, আস্থা আছে’।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণের পরের দিন এভাবেই দেশের যাবতীয় এক্সিট পোলের পরিসংখ্যান করিয়ে দিয়ে বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রীর সাফ কথা, ‘এটা বিজেপির চক্রান্ত। এত করেও মানুষকে মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারল না। তাই বিজেপি শেষ খেলাটা খেলছে। যাতে উলটোপালটা বলে আমাদের মনোবলটা ভেঙে যায়। শেয়ারবাজারে ধস নামবে আসল সত্যিটা বেরোলে। শেয়ার মার্কেটকে শান্ত রাখতেই এটা করেছে।
২০১৬-তেও একই জিনিস হয়েছে, ২০২১-তেও একই জিনিস হয়েছে’। দু’দফা নির্বাচন শেষে এসেছে বুথফেরত সমীক্ষার ফল। বেশিরভাগ বুথফেরত সমীক্ষাতেই বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগজিট পোল নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া দেন। সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। তাতে বড় দাবি করে মমতা বলেন, ২৯৪টির মধ্যে ২২৬টি আসন পাবে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার সেই সমীক্ষা নিয়েই মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় তিনি রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে বলেছেন, ‘এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যে ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ওঁরা প্রাণপণ লড়াই করেছে।
অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যাঁরা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তাঁরা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন’। ভিডিওবার্তায় মমতা দাবি করেন, ‘তৃণমূল ২২৬টি আসন পেরোবে। সংবাদমাধ্যমে যা প্রচার করছে তা বিজেপির নির্দেশে হচ্ছে। বিজেপি গতকাল দুপুর ১টা বেজে ৮ মিনিটে খবরের চ্যানেলগুলোকে বিজেপির জয় দেখানোর জন্য একটি সার্কুলার জারি করেছিল। টাকা দিয়ে বলেছিল যাতে এটা দেখানো হয়’। বিজেপি জিতছে না দেখালে শেয়ার বাজারে ধস নামবে। তাই এটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। বলেন, তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভাঙতে এই কাজ করেছে তৃণমূল। ২০১৬, ২০২১-এ যা এগজিট পোল দেখিয়েছে বিজেপির কথায়। নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই।
তাঁর আরও দাবি, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী, নতুন পুলিশদের দিয়ে অত্যাচার করেছে। তারা আমাদের হাতে ছিল না। বাচ্চাদের, মহিলাদের মেরেছে। তৃণমূল কর্মীরা মার খেয়েছেন, তাও এলাকা ছেড়ে যাননি। অনেক কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে’। তৃণমূলের কর্মীদের বার্তা দেন, কেউ যেন কাউন্টিং হল থেকে না বেরোয়। ২ মিনিটের বেশি কোনও প্রার্থী যেন শৌচালয় বা খাবার খাওয়ার জন্য না বের হয়। বেরোলেও কাউকে বসিয়ে দিয়ে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। বিজেপির সংগঠন নেই বলে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করিয়েছে বিজেপি। বড় দাবি করেন মমতা।














