ভোটের আবহ কাটতে না কাটতেই সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে আগাম তৎপরতা শুরু করল বীরভূম জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার স্মৃতি এখনও তাজা—সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই এবার জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করলেন বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি উদয় শঙ্কর ব্যানার্জি। বৈঠক শেষে উদয়বাবু জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও, ফল ঘোষণার পরবর্তী সময়টাই সবথেকে স্পর্শকাতর। তাঁর কথায়, বিজেপি বা তৃণমূল—যে কোনও দলই সরকার গড়ুক না কেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, কোনওভাবেই যেন ২০২১ সালের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটের ফল প্রকাশের পর সংঘর্ষ, হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগে থেকেই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভোট-পরবর্তী সময়ে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহলদারি এবং দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হোক।উদয়বাবুর মতে, এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যাতে ফল ঘোষণার পরেও অটুট থাকে, সেদিকেই নজর রাখার আর্জি জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফল ঘোষণার আগে থেকেই এই ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে, অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে দেয়—যে কোনও ধরনের অশান্তির বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা এবার কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।














