পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করল ভারত, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিক উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন বৈঠকে ইজরায়েল ও অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন, যেখানে মূল গুরুত্ব পেয়েছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষা, ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়, ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সা’রের সঙ্গে কথোপকথনে ইরান, লেবানন এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উঠে আসে, ইজরায়েলের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর আন্তর্জাতিক অবস্থান প্রয়োজন, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ রোধ
এবং ইতিমধ্যেই সমৃদ্ধ উপাদান অপসারণকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে, একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, কারণ এই জলপথে কোনও বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্যও বড় ঝুঁকি, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং-এর সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর, যেখানে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের বিস্তৃত প্রভাব,
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের উপর তার প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় হয়, এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ থেকে স্পষ্ট, ভারত একদিকে নিজের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে, অন্যদিকে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সংলাপ বজায় রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে আগ্রহী, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ভারতের প্রধান লক্ষ্য হল জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা, সব মিলিয়ে জয়শঙ্করের এই ধারাবাহিক বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার সংকটকে ঘিরে ভারত কেবল পর্যবেক্ষক নয়, বরং সক্রিয় কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।












