Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগির আঘাতে নিহত ৬৬

ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগির আঘাতে নিহত ৬৬

লিপাইনের মধ্যাঞ্চলে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুনগুলোর একটির আঘাতে কমপক্ষে ৬৬ জন নিহত হয়েছে। টাইফুনের কারণে লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

টাইফুন ‘কালমেগি’ বেশ অনেকটা এলাকা জুড়ে জলোচ্ছ্বাসের সৃটি করেছে যার মধ্যে রয়েছে মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপ সেবু। এখানেই বেশিরভাগ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে মানুষ বাড়ির ছাদের উপর আশ্রয় নিচ্ছে, আর গাড়ি এবং শিপিং কন্টেইনারগুলি রাস্তা দিয়ে ভেসে যাচ্ছে।

তবে সরকারের ঘোষিত মৃতের সংখ্যায় সেবুর দক্ষিণে মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য মোতায়েন করার পর বিধ্বস্ত একটি সামরিক হেলিকপ্টারের ছয়জন ক্রু সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। হেলিকপ্টারটি মঙ্গলবার আগুসান দেল সুরের কাছে বিধ্বস্ত হয় এবং এটি সাহায্যে পাঠানো চারটি বিমানের মধ্যে একটি ছিল।

ফিলিপাইন বিমান বাহিনী বলেছে, “হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, যার কারণে অবিলম্বে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করতে হয়।” পরে, একজন মুখপাত্র বলেছেন যে ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের পাইলট এবং ক্রু বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে ‘তিনো’ নামে পরিচিত এই টাইফুনটি মঙ্গলবার ভোরে আঘাত হানার পর থেকে দুর্বল হয়েছে, তবে এটি এখনো ঘণ্টায় ৮০ মাইলেরও বেশি (ঘণ।টায় ১৩০ কিমি) বেগে বাতাস নিয়ে আসছে। এটি ভিসায়াস দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চল পেরিয়ে বুধবারের মধ্যে দক্ষিণ চীন সাগরে চলে যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো একটি ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, “সেবুর পরিস্থিতি সত্যিই অভূতপূর্ব।” তিনি বলেন, “আমরা আশা করছিলাম বাতাসটাই বিপজ্জনক হবে, কিন্তু… জলোচ্ছ্বাসই আসলে আমাদের মানুষদের বিপদের মুখে ফেলছে”। তিনি বলেন। “বন্যারপানি কেবলই ধ্বংসাত্মক।”

দুর্যোগ ত্রাণ প্রচেষ্টা সহজ করার জন্য বারিকুয়াত্রো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেবুতে ‘স্টেট অফ ক্যালামিটি’ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বেশিরভাগ মৃত্যু হয়েছে ডুবে যাওয়ার কারণে। এই ঝড় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে শহর ও নগরগুলিতে কাদা জলের স্রোত নিয়ে আসছে।

সেবুতে আবাসিক এলাকাগুলিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, অনেক ছোট ভবন ভেসে গেছে এবং সরে যাওয়া বন্যার জল পুরু কাদার আস্তরণ রেখে গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলি নৌকায় করে তাদের ঘরবাড়ির ভিতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে শুরু করেছে।

সেবু সিটির ২৮ বছর বয়সী ডন দেল রোসারিও বলেন, “আমি এখানে ২৮ বছর ধরে আছি এবং এটি এখন পর্যন্ত আমরা যা অভিজ্ঞতা করেছি তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ।”

অফিস অব সিভিল ডিফেন্সের উপপ্রশাসক রাফায়েলাইটো আলেজান্দ্রো  বলেছেন, সব মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে টাইফুনের পথ থেকে সরানো হয়েছে। ফিলিপাইন প্রতি বছর গড়ে ২০টি ঝড় এবং টাইফুন আঘাত হানে।

এর আগে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আরেকটি টাইফুনে ১২ জনেরও বেশি লোক মারা গিয়েছিল এবং অবকাঠামো ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছিল।

স্থানীয়ভাবে ‘ন্যান্ডো’ নামে পরিচিত সুপার টাইফুন রাগাসা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আঘাত হানে, এর পরপরই স্থানীয়ভাবে ‘ওপং’ নামে পরিচিত টাইফুন বুয়ালোই আঘাত হানে।

টাইফুন কালমেগি ভিয়েতনামের দিকে অগ্রসর হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে ইতোমধ্যেই রেকর্ড-ভাঙা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

READ MORE.....