ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ভোটার তালিকায় অবৈধ নাম রাখার উদ্দেশ্যে জন্মের জাল শংসাপত্র তৈরি করিয়ে দিচ্ছে। মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে তিনি এই বিষয়ে অভিযোগ জানান। এদিন কলকাতায় সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে সাংবাদিকদের সামনে এসে তিনি বলেন,রাজ্যের নানা জায়গায় জন্ম শংসাপত্র নিয়ে জালিয়াতি চলছে।
তৃণমূল কংগ্রেস ও আইপ্যাকের চক্রান্তে মৃত মানুষের নামও ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। জাল বার্থ সার্টিফিকেট থেকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট বানিয়ে নাম তোলা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার-সহ কয়েকটি জেলায় এই অনিয়ম ধরা পড়েছে। এমনকি মিড ডে মিলের রাঁধুনিদেরও ব্লক লেভেল অফিসার বা বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, এত ষড়যন্ত্র করেও শাসক দলের কোনও লাভ হবে না।
উল্লেখযোগ্যভাবে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের দ্বিতীয় দফা বা এসআইআর । এদিন থেকেই বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ শুরু করেছেন। ঠিক সেই সময়েই নির্বাচন কমিশনে হাজির হন শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর দলের প্রতিনিধিরা। সিইওর সঙ্গে আলোচনায় জন্ম শংসাপত্র জমা দেওয়া সংক্রান্ত আইন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। শুভেন্দুর দাবি, কমিশন জানিয়েছে, ফর্মে বাবা-মা বা দাদু-দিদার নাম ছাড়া অন্য আত্মীয়ের নাম দিলে তা সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যাবে। ফলে নতুন করে জাল জন্ম সার্টিফিকেট বানিয়ে লাভ হবে না।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, কলকাতা পুরসভা ও বিভিন্ন পুরসভার সামনে জন্ম শংসাপত্রের লম্বা লাইন পড়েছে, কিন্তু এই প্রচেষ্টা বৃথা যাবে। বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৫৭০০ বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যেই কমিশন এই অভিযোগগুলির রিপোর্ট দেবে। এছাড়াও বিজেপি প্রায় ৬০ হাজার বিএলএ-২ নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান শুভেন্দু।















