Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে তিলোত্তমা

কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে তিলোত্তমা

মহানগরী তিলোত্তমায় এখন দ্বিমুখী সংকট। একদিকে জাঁকিয়ে পড়া শীতের কামড়, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাতাসের বিষ। সোমবারও দিনভর রোদের দেখা মেলেনি বললেই চলে। মাঝেমধ্যে সূর্য উঁকি দিলেও উত্তুরে হাওয়ার দাপটে তা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় যখন শহর কাঁপছে, ঠিক তখনই কলকাতার বায়ুর মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে পরিবেশবিদ ও পুর-কর্তৃপক্ষের।

 

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শহরের বেশ কিছু এলাকায় শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতের আমেজে নতুন বছরের শুরুতে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। আর তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষণ। কলকাতা পুরসভা দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ করলেও তাতে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশবিদদের মতে, শীতকালে বায়ুপ্রবাহ থিতু হয়ে যাওয়ার ফলেই এই বিপদ বাড়ছে। শহরের উপরিভাগে ধোঁয়াশা ও কুয়াশার আস্তরণ জমাট বাঁধায় দূষিত কণাগুলি বাতাসে আটকে থাকছে।

 

এর ফলেই এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দ্রুত ‘খারাপ’ থেকে ‘অত্যন্ত খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, মহানগরীর বেশ কিছু এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একিউআই ৩১৬ পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। বালিগঞ্জ এলাকায় এই মান ২৭৫ থেকে ৩০০-এর ওপর ঘোরাফেরা করছে। খাস দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকাতেও বায়ুর মান ২৭৫ থেকে ৩০৫-এর মধ্যে থাকছে। বাদ যাচ্ছে না সল্টলেকও। সেখানে একিউআই ১৮০ থেকে ২৭৮-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিমাণ দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড়সড় হুমকির সমান। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ফুসফুসের সমস্যায় এই বাতাস মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে শহরের আনাচে-কানাচে দেখা যাচ্ছে মানুষের আগুন পোহানোর দৃশ্য। ফুটপাতবাসী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী অনেকেই শুকনো পাতা বা কাঠ জ্বালিয়ে হাত-পা সেঁকে নিচ্ছেন। চায়ের দোকানে আগুনের আঁচের পাশে বাড়ছে জমায়েত। এই ধোঁয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। একদিকে কুয়াশার চাদর আর অন্যদিকে ধোঁয়া দুই মিলে শহরকে যেন দমবন্ধ করা এক আবহে ঘিরে ফেলেছে। দূষণ ঠেকাতে পুরসভা তৎপর হলেও প্রকৃতির বিমুখতা আর বায়ুর স্থবিরতা এই মুহূর্তে মহানগরীর প্রধান মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

READ MORE.....