সাতসকালে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তৎপরতায় শোরগোল পড়ে গেল খাস আলিপুরে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রায় ১০০০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীর ডেরায় হানা দিল সিবিআই। জালিয়াতির শিকড় খুঁজতে এদিন সকাল থেকেই আলিপুর নিউ রোড এবং আলিপুর অ্যাভিনিউ-সহ শহরের একাধিক ঠিকানায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বিপুল অঙ্কের এই ঋণ নিয়ে নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরেই এদিন কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন গোয়েন্দারা।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সিবিআই সূত্রের খবর, এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় মূল অভিযুক্ত দুই ব্যবসায়ী এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি সংস্থা। তালিকায় নাম রয়েছে এক অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি কর্মীরও। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী এই গোষ্ঠীটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে প্রথমে ৭৩০ কোটি এবং পরবর্তী পর্যায়ে ২৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রতারণার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। দীর্ঘ ছ’বছর ধরে চলা এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতি নিয়ে আগেই তৎপর হয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। মামলাটি আদালত পর্যন্ত গড়ালে শেষমেশ উচ্চ আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে মরিয়া হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
অভিযানের শুরুটা অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। এদিন ভোরে সিবিআই আধিকারিকদের একটি দল প্রথমে হানা দেয় আলিপুরের নিউ রোডের একটি অভিজাত আবাসনে। সেখানে ব্যবসায়ীকে না পেয়ে দমে যাননি গোয়েন্দারা। সূত্র মারফত খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত পৌঁছে যান আলিপুর অ্যাভিনিউয়ের অন্য একটি বাড়িতে। সেখানে ঢুকেই শুরু হয় নথিপত্র পরীক্ষা। পাশাপাশি শহরের আরও বেশ কিছু গোপন আস্তানায় গোয়েন্দা দল তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিপুল পরিমাণ ঋণের টাকা ঠিক কোন কোন পথে ঘোরানো হয়েছিল এবং কার মদতে এই জালিয়াতি সম্ভব হল।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০(বি) ধারা অর্থাৎ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনেও মামলা রুজু করা হয়েছে। সিবিআইয়ের এক আধিকারিকের কথায়, ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ছ’বছর ধরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে দফায় দফায় কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে নয়ছয় করা হয়েছে। প্রথমে ৭৩০ কোটি এবং পরে ২৬০ কোটি টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এই জালিয়াতির জাল কতদূর বিস্তৃত এবং ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের একাংশের যোগসাজশ ছিল কি না, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। আলিপুরের এই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।















