২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শুরুতেই প্রশাসনিক কাজ এবং একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের গতি বজায় রাখতে বড়সড় তহবিল ছাড়ের সবুজ সংকেত দিল রাজ্য অর্থ দফতর। ভোট অন অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে বছরের প্রথম চার মাসের খরচ সামলাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পয়লা এপ্রিল থেকেই সরকারি কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে অর্থের জোগান নিশ্চিত করল প্রশাসন।
সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘জয় বাংলা’ প্রকল্পের ওপর। নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই দুই জনপ্রিয় প্রকল্পে বার্ষিক বরাদ্দের ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত টাকা এখনই খরচ করা যাবে। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মহিলাদের স্বস্তি দিতে ফেব্রুয়ারি থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১০০০ টাকার পরিবর্তে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন।
প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিতে কোনও খামতি রাখছে না নবান্ন।
প্রশাসনিক ব্যয়ের ক্ষেত্রেও হাত খুলেছে সরকার। বেতন, মজুরি, হাসপাতালের ওষুধ, খাবার এবং বিদ্যুৎ-টেলিফোন বিল মেটানোর মতো জরুরি ক্ষেত্রে মোট বরাদ্দের ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের স্কলারশিপ এবং স্টাইপেন্ডেও একই হারে টাকা মিলবে। তবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানী পথে হেঁটে ২০ শতাংশ পর্যন্ত খরচের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে অবশ্য অর্থ দফতরের আগাম অনুমতি নিতে হবে।
সরকারি কর্মীদের বকেয়া মেটাতেও তৎপর নবান্ন। পাবলিক সেক্টর ইউনিটের কর্মীদের বেতন এবং পরিবহণ নিগমের কর্মীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা দিতে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ ও অগ্রিম খাতে টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন (ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ অনুযায়ী রাজ্যপালের সম্মতির পরেই এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। নতুন বছরে রাজ্যের প্রশাসনিক চাকা সচল রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।















