Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

যোগ্য ভোটার বাদ দিয়ে ভোট নয়, বিমান-সেলিমের নিশানায় কমিশন

যোগ্য ভোটার বাদ দিয়ে ভোট নয়, বিমান-সেলিমের নিশানায় কমিশন

আগে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় তুলুন, তারপর ভোট। এই দাবিতেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ যাওয়া এবং লক্ষ লক্ষ নাম ‘বিবেচনাধীন’ রাখার অভিযোগে সরব হয়েছে বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে কড়া বার্তা দিলেন বর্ষীয়ান জননেতা বিমান বসু। সাফ জানিয়ে দিলেন, একজন যোগ্য ভোটারের নাম বাদ রেখে কোনওভাবেই ভোট হতে দেওয়া হবে না। রাজ্যে নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করলেও ভোটার তালিকা ঘিরে দানা বেঁধেছে চরম বিতর্ক। বামেদের অভিযোগ, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় আটকে রাখা হয়েছে। কোনও কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে আরও ৬ লক্ষ নাম। এই আবহে বৃহস্পতিবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে এক প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে বিমান বসু ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমরা কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়েছি, ৬০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে কোনওভাবেই ভোট হতে পারে না।

 

আগে যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তার পর ভোট ঘোষণা করা হোক।’ একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেন বিভাজন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘একই পরিবারের বাবা-মা যদি ভোটার তালিকায় থাকেন, তাহলে সন্তানের নাম কীভাবে বিচারাধীন তালিকায় চলে যায়? এর ব্যাখ্যা কমিশনকে দিতে হবে।’ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই ঘটনায় প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশ খুঁজে পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু, দলিত এবং বিবাহিত মহিলাদের লক্ষ্য করেই এই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। সেলিমের কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে বলেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আরএসএস কমিশনকে ব্যবহার করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’ একদিকে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ধর্মীয় কার্ড’ খেলার সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, মানুষ এখন এই খেলা বুঝে গিয়েছে। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বামেরা।

 

বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে কলকাতার রাজপথেও। বুধবার থেকে কমিশনের দপ্তরের সামনে রাতভর অবস্থান চালিয়েছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্তের মতো যুব নেতারা। মীনাক্ষীর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করা হয়েছে। তালিকায় নাম নেই কেন, তার সদুত্তর না মেলা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কলতান। কমিশনের আশ্বাসের পর আপাতত অবস্থান উঠলেও লড়াই থামছে না। শুক্রবার থেকে ব্লক স্তরে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। আগামী ৮ মার্চ কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসার কথা। সেই সফরের পরই পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করবেন বিমান বসুরা। লড়াই এখন স্রেফ ব্যালটের নয়, লড়াই এখন ভোটাধিকার রক্ষার। ফাইল ফটো ।

READ MORE.....