ভস্মীভূত হওয়ার স্মৃতি মুছে ফেলে ফের মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে উত্তরবঙ্গের পর্যটনের মুকুট ‘হলং বনবাংলো’। গত ১৮ জুনের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জলদাপাড়ার এই ঐতিহ্য ছাই হয়ে গেলেও, এবার আট কোটি টাকা ব্যয়ে তাকে নতুন সাজে ফিরিয়ে আনছে রাজ্য সরকার। বন দফতর সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনের আচরণবিধি লাগু হওয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের শিলান্যাস করতে পারেন। ইতিমধ্যেই ঠিকাদার সংস্থাকে জমিও হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুরোনো সেই কাঠের নস্টালজিয়া আর আগুনের ভয়,এই দুইয়ের ভারসাম্য রেখেই তৈরি হয়েছে নতুন নকশা। সংরক্ষিত অরণ্যের কড়া আইন মেনে সরাসরি কংক্রিট ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা থাকলেও, নয়া প্রযুক্তির সাহায্যে এবার কাঠ ও কংক্রিটের এক মজবুত মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে। কাঠামোর বাইরের অংশে কাঠের চিরচেনা সৌন্দর্য বজায় থাকলেও ভিতরের কারিগরি হবে সম্পূর্ণ অগ্নিরোধী। ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই আগুনের গ্রাসে এই সম্পদ না হারিয়ে যায়, তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ফায়ারপ্রুফ’ উপকরণ।
১৯৬৭ সালে তৈরি হওয়া এই বাংলোর সেই জনপ্রিয় আটটি কক্ষই ফিরে আসছে নতুন অবয়বে। পর্যটকদের বন্যপ্রাণের সান্নিধ্য দেওয়ার সেই আদি স্বাদ অটুট রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। ‘পুনর্নির্মাণের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার হাতে ইতিমধ্যেই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ সব ঠিক থাকলে মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাসের পরই দ্রুত গতিতে শুরু হবে কাজ। উত্তরবঙ্গের পর্যটনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতেই সরকারের এই মেগা পরিকল্পনা।














